বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে দস্যুদের হামলা ॥ ৩টি ফিশিং ট্রলারের ৮ জেলে গুলিবিদ্ধ ৪ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক

jolshima
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ বঙ্গোপসাগরে সুন্দরবন উপকূলীয় ফেয়ারওয়ে বয়ার অদূরে রোববার রাত ১০টার দিকে ৩টি ফিশিং ট্রলারে গুলি চালিয়েছে বনদস্যুরা। এতে ৮ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন খোকন মিয়া, লিটন মিয়া, নুরুল ইসলাম, কবির মিয়া, মাসুদ মিয়া, সাইদুল ইসলাম, লিটু মিয়া ও ফোরকান। এদের মধ্যে খোকন, মাসুদ, কবির ও নুরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বরিশাল শের-এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কোস্টগার্ড ও ট্রলার মালিক সমিতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্টগার্ড ও এফবি মোহসিন আউলিয়া ট্রলার ৩টির মালিক আলম মোল্লা জানান, তার এফবি মোহসিন আউলিয়া-১, এফবি মোহসিন আউলিয়া-৩ ও এফবি মোহসিন আউলিয়া-৪ ট্রলার ৩টি রোববার রাতে সুন্দরবন উপকুলে ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে মাছ ধরছিল। রাত ১০টার দিকে গভীর সমুদ্র থেকে দুটি ট্রলার যোগে ২৫/৩০ জনের একদল বনদস্যু তার ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা করে। এসময় জেলেরা টের পেয়ে ট্রলার নিয়ে পালাতে চেষ্টা করলে বনদস্যুরা তাদের গভীর সমুদ্রে যেতে বাধ্য করে। এসময় বনদস্যুরা ৩টি ট্রলারে থাকা ৪৫ জন জেলেকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। বনদস্যুদের গুলিতে ৮ জেলে আহত হন। এদের মধ্যে আশংকাজনক ৪ জেলের শরীরের বিভিন্নস্থনে ৩৫/৪০টি ছড়া গুলি লেগেছে। বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মান্নান গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় মুঠোফোনে জানান, অক্ষত জেলেরা আহতদের উদ্ধার করে সোমবার বেলা ১১টার দিকে পাথারঘাটায় নিয়ে আসেন। পরে পাথরঘাটা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুপুর ১টার দিকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কোস্টাগার্ড পাথরঘাটা স্টেশনের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ট্রলার ৩টির মালিক ও ট্রলার মালিক সমিতি সূত্রে খবরটি নিশ্চিত হয়েছেন। তবে কোন বনদস্যু বাহিনী এঘটনার সাথে জড়িত তা তিনি নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি।

শেয়ার