আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ

Awoamilug
সমাজের কথা ডেস্ক॥ হারিয়ে যাওয়া স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে আওয়ামী লীগে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের টানা ৪০ দিনের চলমান অবরোধ-হরতাল নিয়ে দলটির চাপা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা থাকলেও গত কয়েক দিনের ঘটনায় দলটির নেতারা আত্মবিশ্বাস ও আস্থা ফিরে পেয়েছেন। মূলত তিন কারণে স্বস্তিতে রয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটি জানা গেছে।
তিন কারণের প্রথমটি হচ্ছে— রবিবার হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও ও সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও, সহিংসতাকে কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত। এই রুলে সরকার বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ-হরতালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘আদালতের এই রুল প্রশংসনীয়। আশা করি আদালতের এই নির্দেশের মাধ্যমে সরকার আইনগতভাবে এখন নাশকতা দমনে ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে— ১৪ দলের শীর্ষ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বর্তমানে এক ধরনের সন্তোষ ও স্বস্তি বিরাজ করছে। বিএনপির চলমান অবরোধ-হরতাল গা-সওয়া হয়ে গেছে মানুষের। জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এতে সরকার অনেকটাই চাপমুক্ত। এ সপ্তাহের মধ্যেই সবকিছুর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছে চলে আসবে বলেও মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
আওয়ামী লীগের অনেক নেতার মতে, বিএনপি আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে পরাজিত হয়ে এখন বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। বিএনপির আর রাজনীতির মূলধারায় ফিরে আসার সুযোগ নেই। আর এর সকল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
তৃতীয় কারণটি হচ্ছে, অবরোধ-হরতালে নাশকতা ও সহিংস কর্মকান্ড বিএনপি-জামায়াতের এটা উল্লেখ করে সচিত্র প্রতিবেদন পাঠানোর পর বহির্বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিতে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে অনেকটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
আওয়ামী লীগের তিনজন শীর্ষ নেতা জানান, বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও দাতা সংস্থার উদ্বেগ প্রকাশ নিয়ে অনেকটাই দ্বিধান্বিত ছিলেন তারা। সারাদেশে চলমান নাশকতায় মৃত্যুর ঘটনাতেও জনমত নিয়ে সরকারে ছিল অসন্তোষ। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যেও চাপা উদ্বেগ ছিল। অনেকেই ছিলেন অন্ধকারে কিন্তু এখন আর এ পরিস্থিতি নেই।
আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, জাতিসংঘ ও ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ও সহিংস কর্মকান্ডের সচিত্র প্রতিবেদন পাঠানোর পর বিদেশীদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব বিদেশীরা বিএনপির সহিংসতা নিয়েই মূলত উদ্বেগ প্রকাশ করছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরো মায়াদরোর নেতৃত্বে আরও দুই কূটনীতিক ড. পিয়েরো ল্যামবার্ট ও অলিভিয়ার ব্রাউন্ট ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দগ্ধদের খোঁজখবর নেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত তো আর আন্দোলন করছে না। আন্দোলন তো আমরাও করেছি। রাজপথে পুলিশের লাঠিপেটা খেয়েছি। কিন্তু রাজপথ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। বিএনপি আন্দোলনের নামে জঙ্গিবাদী কায়দায় মানুষ হত্যা করছে। ’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা নিয়ে সারাদেশের মানুষের মতো আমিও উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু যে আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই সেটা তো আর আন্দোলন নয়। তাই জনগণের ওপর ক্ষোভে বিএনপি-জামায়াত পেট্রোলবোমা হামলা শুরু করেছে। এটা এখন বিদেশীরাও বুঝতে পেরেছেন। তাই আমাদের মতো তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।’
জানা গেছে, সর্বশেষ নাগরিক সমাজের কার্যক্রম নিয়েও চিন্তিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। আসলেই নাগরিক সমাজ কাদের পক্ষে কাজ করছে তা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল সবার মধ্যেই। এ জন্য নাগরিক সমাজের সমালোচনা করা হলেও ধীরে ধীরে নাগরিক সমাজের কার্যক্রম প্রকারান্তরে সরকারের পক্ষেই যাচ্ছে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সুশীল সমাজ যাই করুক সেটা সরকারের পক্ষেই যাবে। আমাদের দরকার ছিল ড. কামাল হোসেনকে সুশীল সমাজ থেকে সরানো। সেটা আমরা পেরেছি। এখন সুশীল সমাজ নিয়ে আমাদের আর কোনো মাথা ব্যথা নেই।’
আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বিএনপি জোটের চলমান নাশকতাকে ঘিরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রমও সফল হচ্ছে। এ জন্য সাধারণ মানুষ নাশকতাকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছে।
জানা গেছে, ব্যবসায়ী সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরকারের পক্ষে অবস্থান আওয়ামী লীগকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের সাদা পতাকার মানববন্ধন ও অনশন; বিদেশী দূতাবাসগুলোতে সরকারের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘আমাদের দলের কখনই আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না বরং ধীরে ধীরে আমাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। মাঝখানে বিএনপি-জামায়াতের ব্যাপক নাশকতার কারণে যখন মানুষের মৃত্যু হচ্ছিল, বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে সাধারণ নাগরিকরা পাঞ্জা লড়ছিল, তখন তো সরকারি দল হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। এখন তো সবকিছুই স্বাভাবিক। গাড়ি চলছে, দোকান খুলছে। দেশের সব কিছুই স্বাভাবিক।’
নাসিম বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের চলমান নাশকতা যে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইেএসের মতো, তা এখন স্পষ্ট। ধীরে ধীরে বিএনপি-জামায়াতের আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্কের গোপন তথ্যও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। বিদেশীরা তা বুঝে ফেলেছে। এ জন্যই জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবাই এই নাশকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অনেকেই বার্ন ইউনিটেও যাচ্ছেন। সরকারের অবস্থান এখন সুদৃঢ়।’
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি যে একটি জঙ্গি সংগঠন সারা জাতির কাছে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ব বুঝে ফেলেছে আইেএসের সঙ্গে যেমন শান্তি আলোচনা সম্ভব নয়, তেমনি বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয়। এ জন্যই সকল মহল সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে।’

শেয়ার