সেই ভারতেই ধরাশায়ী পাকিস্তান

Shehzad
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো হল না পাকিস্তানের। ওয়ানডের সেরা টুর্নামেন্টে আবারও চির-প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হেরেছে তারা। বিরাট কোহলির শতকে ৭৬ রানের সহজ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
কোহলির শতক আর সুরেশ রায়না ও শিখর ধাওয়ানের দুই অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ গড়ে ভারত। এক সময় মাত্র ৯ বলের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে দিক হারানো পাকিস্তান আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি; অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছেন কেবল।
বিশ্বকাপে আগের পাঁচ দেখায় ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। মাঠও যেন এই দিন তাদের প্রতিপক্ষ ছিল। অ্যাডিলেইড ওভালে এর আগে সাত ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনোটিতেই জিততে পারেনি তারা। এবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় হার দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
অ্যাডিলেইড ওভালে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩০০ রান করে ভারত। জবাবে ৪৭ ওভারে ২২৪ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।
মোহাম্মদ সামির বাউন্সার ঠিকভাবে খেলতে না পেরে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সহজ ক্যাচ দেন ইউনুস খান। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমেছিলেন।
হারিস সোহেলের সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে এগিয়ে নিতে থাকেন শেহজাদ। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে হারিস স্লিপে রায়নার ক্যাচে পরিণত হলে ভাঙে ১৪.৪ ওভার স্থায়ী দ্বিতীয় উইকেট জুটি।
অধিনায়ক মিসবাহর সঙ্গে দলকে ১০২ রানে নিয়ে যান শেহজাদ। এরপরই পথ হারায় পাকিস্তান, যার শুরু শেহজাদের বিদায়ে। উমেশ যাবদের বলে রবিন্দ্র জাদেজা দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তার ক্যাচে ধরেন।
এক বল পরে শোয়েব মাকসুদকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন উমেশ। স্লিপে রায়নার হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মাকসুদ।

পরের ওভারে উমর আকমল আউট হলে ৫ উইকেটে ১০৩ রানে পরিণত হওয়া পাকিস্তান তাকিয়ে ছিল শহিদ আফ্রিদির দিকে। তবে হতাশ করেছেন এই অলরাউন্ডার।
মিসবাহর সঙ্গে ৪৬ রানের জুটি গড়ে সামির একটি ফুলটস উড়িয়ে মারতে গিয়ে কোহলির ক্যাচে পরিণত হন আফ্রিদি। সেই ওভারেই ওয়াহাব রিয়াজকে ফিরিয়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান সামি।
আফ্রিদি-ওয়াহাবের বিদায়ের পরপরই মাঠ ছাড়া শুরু করেন পাকিস্তানের সমর্থকরা।

ইয়াসির শাহর সঙ্গে ৪৯ রানের জুটিতে দলের সংগ্রহ দুইশ’ পার করেন মিসবাহ। অতিরিক্ত মারতে গিয়ে সামির বলে অজিঙ্কা রাহানের ক্যাচে পরিণত হন পাকিস্তানের অধিনায়ক।

সর্বোচ্চ ৭৬ রান করা মিসবাহর ৮৪ বলে ইনিংসটি গড়া ৯টি চার ও ১টি ছক্কায়। তার বিদায়ের পর বেশি দূর এগোয়নি পাকিস্তানের ইনিংস।

বিশ্বকাপের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ অ্যাডিলেড ওভালেই খেলে ভারত। তাই কন্ডিশন সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা ছিল তাদের।

তবে ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। দলীয় ৩৪ রানে সোহেল খানের বলে মিসবাহকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোহিত শর্মা।

অষ্টম ওভারেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও ভারতকে চাপে ফেলতে পারেনি পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে ১২৯ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন ধাওয়ান ও কোহলি। তাদের ২২.২ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙে ধাওয়ানের রান আউটে।

কোহলি লেগের দিকে বল ঘুরালে রান নিতে চেয়েছিলেন দুই ব্যাটসম্যানই। বিপদ বুঝে নিজের জায়গায় ফেরার চেষ্টা করেন ধাওয়ান। কিন্তু তার আগেই স্কয়ার লেগ থেকে মিসবাহর সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে যান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

৭৩ রান করা ধাওয়ানের ৭৬ বলের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও ১টি ছক্কায়।

তৃতীয় উইকেটে রায়নার সঙ্গে ১১০ আরেকটি দারুণ জুটি উপহার দিয়ে দলকে তিনশ’ রানের দিকে নিয়ে যান ২২তম ওয়ানডে শতক পাওয়া কোহলি। ৭৬ রানে উইকেটরক্ষক আকমলের হাতে জীবন পাওয়া এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি।

শতরানে পৌঁছানোর পর বিদায় নেন ম্যাচসেরা কোহলি। ১২৬ বলে খেলা তার ১০৭ রানের চমৎকার ইনিংসটি গড়া ৮টি চারে।

কোহলির বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকেননি রায়না। সোহেলের তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান খেলেন ৭৪ রানের আক্রমণাত্মক এক ইনিংস। রায়নার ৫৬ বলের ইনিংসটিতে রয়েছে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা।

শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় সংগ্রহ আরো বড় হয়নি ভারতের। শেষ ওভারে পরপর দুই বলে ধোনি ও রাহানেকে বিদায় করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান সোহেল।

শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও ৫৫ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে সোহেলই পাকিস্তানের সেরা বোলার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৫০ ওভারে ৩০০/৭ (রোহিত ১৫, ধাওয়ান ৭৩, কোহলি ১০৭, রায়না ৭৪, ধোনি ১৮, জাদেজা ৩, রাহানে ০, অশ্বিন ১*, সামি ৩*; সোহেল ৫/৫৫, রিয়াজ ১/৪৯)

পাকিস্তান: ৪৭ ওভারে ২২৪ (শেহজাদ ৪৭, ইউনুস ৬, হারিস ৩৬, মিসবাহ ৭৬, শোয়েব ০, আকমল ০, আফ্রিদি ২২, ওয়াহাব ৪, ইয়াসির ১৩, সোহেল ৭, ইরফান ১*; সামি ৪/৩৫, মোহিত ২/৩৫, উমেশ ২/৫০, অশ্বিন ১/৪১, জাদেজা ১/৫৬)
ম্যাচ সেরা: বিরাট কোহলি।

শেয়ার