ভগ্নহৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকা যায়?

broken heart
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভালোবাসার সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক সত্যিই আছে কি নেই, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্কটা বেশ পুরনো। তবে ভগ্ন হৃদয়ের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক থাকতে পারে- এমন বেশকিছু সম্ভাবনা সাম্প্রতিক সময়ে খুঁজে পেয়েছেন চিকিৎসকরা।
বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু হৃদরোগের ঘটনা পর্যসবেক্ষণ করে চিকিৎসকরা দেখেছেন, মানুষের আবেগিক অবস্থার সঙ্গে মস্তিষ্কের যেমন সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি আবেগিক অবস্থার সঙ্গে হৃদরোগেরও সম্পর্ক থাকতে পারে।

মানুষ মাদক গ্রহণ করলে বা মদ্যপান করলে মস্তিষ্কের যে অংশে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, প্রেমে পড়লেও সেই একই অংশে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে দীর্ঘদিন মাদকগ্রহণের পরে হঠাৎ তা বন্ধ করে দিলে মস্তিষ্কে যেসব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় হঠাৎ করে প্রেম ভেঙ্গে যাওয়ায়।

তবে প্রশ্ন হলো, ভগ্ন হৃদয় কি হৃদরোগের কারণ হতে পারে?

এ ব্যাপারে ১৯৮৬ সালে মার্কিন চিকিৎসকদের মধ্যে ম্যাসাচুসেটসের একটি ঘটনা বেশ আলোড়ন তুলেছিলো।

বুকে ব্যথা নিয়ে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন, তার ব্যথাটা বাম বাহুর দিকে ছড়াতে থাকে। এটা হৃদরোগ বা হার্টঅ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ, কিন্তু সেই নারীর হৃদযন্ত্রে কোনো সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি, শরীরের কোথায় প্রাণঘাতী কোনো রক্তজমাট বাঁধার লক্ষণও পাওয়া যায়নি।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে এ ঘটনাটিকে গবেষক টমাস রায়ান ও জন ফেলন বর্ণনা করেন একটি ‘বিশেষ ঘটনা’ হিসেবে।

তারা ধারণা করেন, ওই নারীকে ওইদিনই তার ১৭ বছর বয়সী ছেলের আত্মহত্যার খবর দেয়ার পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করেন, যদিও তিনি হৃদযন্ত্রের কোনো ধরনের রোগে ভুগছিলেন না।

আবেগিক কারণে হৃদরোগের ঘটনাটিকে চিকিৎসকরা নাম দেন ‘কার্ডিওমায়োপ্যাথি’।

মানুষের রোগনিরাময়কারী চিকিৎসকরা যখন এই ঘটনায় বেশ উত্তেজিত, ততোদিনে আবেগিক কারণে হৃদরোগের ব্যাপারটি বেশ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে পশু চিকিৎসকদের কাছে। সাধারণতঃ ছোট আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখিদের মধ্যে এ ঘটনাটি বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বড় কোনো প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রাণহরণের আশঙ্কা সৃষ্টি হলে এটা বেশি দেখা যায়।

১৯৯৫ সালে কয়েকজন গবেষক দেখতে পান, ১৯৯১ সালের পর থেকে ১৮ জানুয়ারি তারিখটিতে ইসরায়েলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা এর দুই মাস আগের বা পরের যেকোনো দিনের তুলনায় বেশি। এর কারণ হিসেবে ওইদিনটিতে উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং ইসরায়েলে ১৮টি মিসাইল হামলার ঘটনাকে কার্ডিওমাইয়োপিয়ার কারণ হিসেবে দেখেন গবেষকরা।

একইভাবে ১৯৯৪ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেন আরেক দল গবেষক। ওইদিন লস অ্যাঞ্জেলেসে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ঘটে, যা উত্তর আমেরিকার বড় কোনো শহরে ভূমিকম্পের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

২০০৫ সাল থেকে ‘কার্ডিওমাইয়োপিয়া’র ব্যাপারটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।

শেয়ার