ফেভারিটের মতোই শুরু দক্ষিণ আফ্রিকার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ডেভিড মিলারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬২ রানের জয়ে শতক করা অন্য ব্যাটসম্যান জেপি ডুমিনির অবদানও কম নয়।
মিলার-ডুমিনির বিশ্ব রেকর্ড গড়া জুটিতে রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, চামু চিবাবা ও ব্রেন্ডন টেইলর দলকে খুব ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। শেষে অবশ্য এই গতি ধরে রাখতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা।

রোববার হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে ‘বি’ গ্রুপের খেলায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ৩৩৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৪৮ ওভার ২ বলে ২৭৭ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সিকান্দার রাজাকে হারায় জিম্বাবুয়ে। তবে চিবাবার সঙ্গে ১০৫ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন মাসাকাদজা। অর্ধশতকে পৌঁছানোর পর চিবাবাকে ফিরিয়ে ১৬.৪ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন ইমরান তাহির।

চিবাবা-মাসাকাদজা সহজেই খেলছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের। দলের সেরা বোলার ডেল স্টেইনও থামাতে পারছিলেন না জিম্বাবুয়ের এই দুই ব্যাটসম্যানকে।

টেইলের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়ে দলকে ২ উইকেটে ১৯১ রানে পৌঁছে দেন ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলা মাসাকাদজা। বিপজ্জনক হয়ে উঠা এই জুটি ভাঙেন তাহির।

মাসাকাদজাকে হাশিম আমলার ক্যাচে পরিণত করেন লেগস্পিনার তাহির। ৭৪ বলে খেলা মাসাকাদজার ৮০ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসটি গড়া ৮টি চার ও ২টি ছক্কায়।
টেইলের দৃঢ়তায় তখনো খেলায় ছিল জিম্বাবুয়ে। দলের রান দুইশ’ পেরুনোর পর তিনি মর্নে মরকেলের শিকারে পরিণত হলে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ৪০ রান করা টেইলের বিদায়ের পর আর কেউ ভালো করতে না পারায় তিনশ’ পর্যন্তও যেতে পারেনি দলটি।

৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার তাহির। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন ভার্নন ফিল্যান্ডার ও মরকেল।

শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিনশ’ রানের কাছাকাছি পৌঁছালেও শুরুটা কিন্তু ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। টেন্ডাই চাটারা ও টিনাশে পানিয়াঙ্গারার ভালো বোলিংয়ে ২২ রানেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে তারা।

চতুর্থ ওভারেই কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে দেন চাটারা। দ্বিতীয় স্লিপ থেকে ফিল্ডার ক্রেইগ আরভিনকে সিলি মিডঅফে সরিয়ে নেয়ার পর সেখানেই ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ডি কক।

চাটারার বলে এলবিডব্লিউ হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান হাশিম আমলা। তবে টিনাশে পানিয়াঙ্গারার বলে বোল্ড হয়ে পরের ওভারেই বিদায় নেন তিনি।
অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন ফাফ দু প্লেসি। তৃতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েন এই দুই জনে। এল্টন চিগুম্বুরার বলে ব্রেন্ডন টেইলরে গ্লাভসবন্দি হয়ে দু প্লেসির বিদায়ে ভাঙে ৮.৫ ওভার স্থায়ী এই জুটি।

এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি ডি ভিলিয়ার্সও। টাফাজওয়া কামুনগোজির বলে সীমানায় দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের দুর্দান্ত ক্যাচ নেন আরভিন।

বল তালুবন্দি করে সীমানার বাইরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ওপরে ছুড়ে দেন আরভিন। মাঠে ফিরে বল মাটিতে পড়ার আগেই ক্যাচ ধরে ডি ভিলিয়ার্সের বিদায় নিশ্চিত করেন তিনি।

৮৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে সাড়ে তিনশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব মিলার ও ডুমিনির। পঞ্চম উইকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই দুই জনে।

শুরুতে দেখেশুনে খেললেও সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন মিলার ও ডুমিনি। তাদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে শেষ ৫ ওভারে ৯৬ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
শুরুতে চমৎকার বল করলেও শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের বোলারদের বোলিংয়ে খুব একটা নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সঠিক লাইন লেন্থে এই সময়ে কমই বল করেন তারা। প্রচুর ফুলটস বল দিয়ে মিলার-ডুমিনিদের কাজটা সহজ করে দেন তারা।

অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে ২৯ ওভার ৪ বলে ২৫৬ রানের জুটি গড়েন মিলার ও ডুমিনি। এই জুটি গড়ে তারা পেছনে ফেলেন ওয়েন মর্গ্যান ও রবি বোপারাকে। ২০১৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অবিচ্ছিন্ন ২২৬ রানের জুটি গড়ে রেকর্ড গড়েছিলেন এই দুই জন।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক করা মিলার অপরাজিত থাকেন ১৩৮ রানে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের এটাই সর্বোচ্চ রান। এর আগের সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ১৩০ রান। তার ৯২ বলের আক্রমণাত্মক ইনিংসটি সাজানো ৯টি ছক্কা ও ৭টি চারে।

চতুর্থ শতক করা ডুমিনি অপরাজিত থাকেন ১১৫ রানে। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ১০০ বলের ইনিংসটি ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা সমৃদ্ধ।

মিলার ও ডুমিনির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ১৪ ওভারে ১৮৪ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মধ্যে সলোমান মায়ারের করা ৪৮তম ওভারে তিনটি করে ছক্কা ও চারের সাহায্যে ৩০ রান নেন মিলার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৩৯/৪ (ডি কক ৭, আমলা ১১, দু প্লেসি ২৪, ডি ভিলিয়ার্স ২৫, মিলার ১৩৮*, ডুমিনি ১১৫*; চিগুম্বুরা ১/৩০, কামুনগোজি ১/৩৪, চাটারা ১/৭১, পানিয়াঙ্গারা ১/৭৩)

জিম্বাবুয়ে: ৪৮.২ ওভারে ২৭৭ (চিবাবা ৬৪, রাজা ৫, মাসাকাদজা ৮০, টেইলর ৪০, উইলিয়ামস ৮, আরভিন ১৩, চিগুম্বুরা ৮, মায়ার ২৭, পানিয়াঙ্গারা ৪, চাটারা ৬, কামুনগোজি ০*; তাহির ৩/৩৬, ফিল্যান্ডার ২/৩০, মরকেল ২/৪৯, ডুমিনি ১/৪৫, স্টেইন ১/৬৪)

ম্যাচ সেরা: ডেভিড মিলার।

যে কোনো মূল্যে জয় চাই বাংলাদেশ কোচের /৩ খেলা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড বিশ্বকাপ শুরু চান বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। চাওয়া পূরণের জন্য ‘কম্বিনেশন’ কী হবে, সেটাও পেয়ে যাওয়ার কথা জানান শ্রীলঙ্কার এই কোচ।
ক্যানবেরায় আগামী বুধবার আফগানিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের নবাগত দলটিকে হারিয়ে লক্ষ্য পূরণের পথে যাত্রা শুরু করতে চান হাথুরুসিংহে।

“প্রথম ম্যাচ সবারই জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, আমাদের প্রথম ম্যাচ জিততে হবে।”

বিশ্বকাপের আগে খেলা চার প্রস্তুতি ম্যাচেই হেরে যায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে দুই ম্যাচ হারের পর পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের কাছেও হেরেছিল মাশরাফি-সাকিবরা। তবে হারলেও প্রস্তুতি ভালো হয়েছে বলে রোববার সাংবাদিকদের জানান বাংলাদেশ কোচ।

“প্রস্তুতি নিয়ে খুশি। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে আমরা যে অনুশীলন করেছি, যে সুযোগ সুবিধা পেয়েছি, সেগুলো ভালো ছিল। এ পর্যন্ত যা কিছু আমরা পেয়েছি, তাতে আমি খুশি।”

আর টিম কম্বিনেশন সম্পর্কে তিনি বলেন, “(প্রস্তুতি ম্যাচ) হেরে যাওয়া কোনো সময়ই আদর্শ কিছু নয় এবং এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা কিছু বিষয় চেষ্টা করেছি, কিছু খেলোয়াড়কে এই কন্ডিশনে খেলার সুযোগ দিয়েছি। কম্বিনেশন কি হবে তা আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”

বিশ্বকাপে নবাগত দল হলেও আফগানিস্তানের সামর্থ্য আছে চমক উপহার দেয়ার। গত এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল তারা। তবে এশিয়া কাপের ওই হারের চাপ, বিশ্বকাপের চাপ-সব জয় করতে চান বাংলাদেশ কোচ।

“বিশ্বকাপে চাপ থাকে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো দলই জানে, কি তাদের প্রত্যাশা। একটু চাপ অনুভব করছি। তবে আশা করি, আমরা ভালো করব।”

মাশরাফি বিন মুর্তজার দলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো তারকার অভাব নেই। তামিম ইকবালের মতো মারকুটে ওপেনার আছে। এনামুল হক তামিমকে শুরু থেকে দারুণ সঙ্গ দেয়ার সামর্থ্য রাখেন। মিডল অর্ডারে মমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, নাসির হোসেনের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের সঙ্গে আছেন তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

বোলিং লাইনআপের গভীরতাও মন্দ নয়। অধিনায়ক মাশরাফি বল হাতে ক্যানবেরার উইকেটে গতি ঝড় তুলতে পারেন। তার কাঁধে কাঁধ মেলাতে পারেন রুবেল হোসেন, আল-আমিন কিংবা তাসকিন আহমেদরা। কোচ হাথুরুসিংহে মনে করেন, সাকিব-তামিমরা তাদের সেরাটা দিতে পারলেই জয়ে শুরুর চাওয়া পূরণ সম্ভব।

“এটা আমাদের প্রথম ম্যাচ। এটা জেতা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো করার ওপর দৃষ্টি দিচ্ছি। আমরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে আমরা লড়াই করতে পারব।”

শেয়ার