কলারোয়ার বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই॥ শুধুই বিলাপ করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা ॥ উপজেলা চেয়ারম্যান ও পুলিশ সুপারসহ কর্মকর্তাদের পরিদর্শন

Kalaroa

আব্দুর রহমান, কলারোয়া॥ কলারোয়ার সীমান্তবর্তী অন্যতম বৃহৎ বাজার বালিয়াডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্মরণকালের এই সর্বগ্রাসী অগ্নিকান্ডে ভষ্মীভূত হয়েছে ৪০টির বেশি দোকান। ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নির্ণয় করা না গেলেও অনন্ত: ১০ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে বিলাপ গুনছেন। খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, রাত ১২ টার পর বালিয়াডাঙ্গা বাজারের নৈশ প্রহরী প্রথমে আগুন লাগার ঘটনা ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। এরপর লোকজন ডেকে এনে বাজারের চারদিকে ছড়িয়ে পড়া আগুনের লেলিহান শিখা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শুকনো মৌসুমে ঘটা এই অগ্নিকান্ড বাজারের বাদামতলা সন্নিকটের সকল দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ঘটনাস্থলে আসার আগেই আগুন গ্রাস করে ফেলে ৪০টির বেশি দোকান। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার ব্রিগেডের ১৩টি ইউনিট ২ ঘন্টার বেশি সময় ধরে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় আগুন লাগা সবগুলো দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনার পর নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে বিলাপ করছিলেন। শনিবার সকাল থেকে বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের সান্ত¦না দিচ্ছিলেন স্থানীয়রা। ঘটনাস্থল প্রত্যক্ষ করলে সেখানে কালো রঙের ছাই ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান হবে না। আমিনুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘদিনের পুরানো এই বাজারটির কেন্দ্রবিন্দু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের দোকানের ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। তবে এই তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাজারের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পণ্য সংরক্ষণের গোডাউনগুলোর আর কোনো অস্তিত্ব নেই। বাজারের সেই বাদামগাছটিও গ্রাস করে আগুনের লেলিহান শিখা। এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন: ইছহাক আলি, শরিফুল, ফজলুর, শাহিনুর, নছির, বাবু,মনিরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, আজাদ, আব্দুল্লাহ,কাশেম, জামাল, আমিরুল, ফিরোজ, মুজিবরসহ আরও অনেকে। অগ্নিকান্ডে সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয়েছে ৩৪টি ও আংশিক ভষ্মীভূত হয়েছে ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির(পিপিএম), উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুপ কুমার তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য বিএম নজরুল ইসলাম, কেঁড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান ভুট্টোলাল গাইন, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম রহমান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক কেএম আনিছুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান পল্টু, সাংবাদিক আব্দুর রহমান প্রমুখ। এ মহুর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারের উপরিমহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যত্থায় পরিবারগুলো তাদের সন্তান-সন্ততি নিয়ে পথে ভেসে যাবে।

শেয়ার