বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৫ অস্ট্রেলিয়ায় বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড

fWhile

সমাজের কথা ডেস্ক॥ পেসারদের দাপটে সহজ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ১১১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।
অ্যারন ফিঞ্চের শতকে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩৪৩ রানের বড় লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। আসরের প্রথম শতকের এই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব দেখান ইংল্যান্ডের পেসার স্টিভেন ফিন।

বিশ্বকাপে তিনশ’ রানের বড় স্কোর গড়ে কখনো হারেনি অস্ট্রেলিয়া। কাজটা তাই ভীষণ কঠিনই ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। তিন মিচেল- মার্শ, জনসন ও স্ট্যার্কের দাপটে লক্ষ্যের ধারে কাছেও যেতে পারেনি তারা।

শনিবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ‘এ’ গ্রুপের খেলায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ৩৪২ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৪১ ওভার ৫ বলে ২৩১ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় কখনো জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ইয়ান বেলের ৩৬ রানের পরও ৭৩ রানে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা।

মইন আলিকে বিদায় করে ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন স্ট্যার্ক। এরপর বেল, গ্যারি ব্যালান্স, জো রুট ও ওয়েন মর্গ্যানকে ফিরিয়ে দেন মার্শ। এর মধ্যে বেল ও রুটকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি।

মার্শের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন মর্গ্যান। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ছন্দে না থাকা এই ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ড অধিনায়কের বাজে সময় আরেকটু প্রলম্বিত করেন মার্শ। তার বল মর্গ্যানের ব্যাটের কানায় লেগে ব্র্যাড হ্যাডিনের গ্লাভসে জমা পড়ে।

পাঁচ ইনিংসে এ নিয়ে চারবার শূন্য রানে ফিরলেন মর্গ্যান।

জস বাটলারকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট নেন মার্শ। শর্ট কাভারে দুর্দান্ত ক্যাচটি তালুবন্দি করা স্টিভেন স্মিথের অবদানও কম নয়।

সপ্তম উইকেটে ক্রিস ওকসের সঙ্গে ৯২ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন জেমস টেইলর। ওকসকে স্মিথের ক্যাচে পরিণত করে ১৪.১ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন জনসন।

এরপর স্টুয়ার্ট ব্রড ও ফিন দ্রুত ফিরে গেলে দুইশ’ রানের নিচে অলআউটের শঙ্কায় পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে সোয়া দুইশ’ পার করেন টেইলর। শেষ পর্যন্ত ৯৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ৯০ বলের ইনিংসটি সাজানো ১১টি চার ও ২টি ছক্কায়।

৩৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার মার্শ। এটি তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন জনসন ও স্ট্যার্ক।

এর আগে জেমস অ্যান্ডারসনের করা প্রথম ওভারেই উইকেট হারাতে পারতো অস্ট্রেলিয়া। মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই ফিরে যেতে পারতেন ফিঞ্চ। কিন্তু মিডউইকেটে ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি ওকস।

জীবন পেয়ে আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন ফিঞ্চ। ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে উড়ন্ত সূচনা দেন তিনি।

ওয়ার্নাকে বোল্ড করে ৭ ওভার ৩ বল স্থায়ী জুটি ভাঙেন ব্রড। পরের বলে শেন ওয়াটসনকে বাটলারের ক্যাচে পরিণত করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি।

ব্রডের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেয়া স্মিথ বেশিক্ষণ টিকেননি। ওকসের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি।

৭০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে কক্ষপথে ফেরানোর কৃতিত্ব ফিঞ্চের। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক জর্জ বেইলির সঙ্গে ১৪৬ রানের জুটি গড়েন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতক করা এই ব্যাটসম্যান।

কাভার থেকে মর্গ্যানের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিঞ্চের বিদায়ে ভাঙে ২৬ ওভার স্থায়ী জুটি। ১২৮ বলে খেলা ফিঞ্চের ১৩৫ রানের চমৎকার ইনিংসটি ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা সমৃদ্ধ। এটি তার ষষ্ঠ শতক।

চলতি আসরে প্রথম শতক পাওয়া ফিঞ্চের বিদায়ের পরপরই তাকে অনুসরণ করেন বেইলি। ৬৯ বলে ৫৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি।

ষষ্ঠ উইকেটে মার্শের সঙ্গে ৫৩ ও ব্র্যাড হ্যাডিনের সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়ে দলকে সাড়ে তিনশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৬৬)। তার ৪০ বলের ইনিংসটি ১১টি চারে গড়া।

ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে মার্শ ও হ্যাডিনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ ১২ ওভারে ১১৪ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া।

হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি ব্রড কিন্তু পরপর তিন বলে উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব ঠিকই দেখিয়েছেন ফিন।

অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শেষ তিন বলে হ্যাডিন, ম্যাক্সওয়েল ও জনসনকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন ফিন।

৫০তম ওভারের চতুর্থ বলে ডিপ থার্ড ম্যানে ব্রডের হাতে ধরা পড়েন ১৪ বলে ৩১ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলা হ্যাডিন। পরের বলে স্ট্রাইকে এসে লং অফে জো রুটের চমৎকার ক্যাচে পরিণত হন ম্যাক্সওয়েল।

শেষ বলে জনসন মিডঅফে অ্যান্ডারসনের হাতে ক্যাচ দিলে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় ফিনের। ৭১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার।

শতরানের চমৎকার ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ফিঞ্চ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৪২/৯ (ওয়ার্নার ২২, ফিঞ্চ ১৩৫, ওয়াটসন ০, স্মিথ ৫, বেইলি ৫৫, ম্যাক্সওয়েল ৬৬, মার্শ ২৩, হ্যাডিন ৩১, জনসন ০, স্ট্যার্ক ০*; ফিন ৫/৭১, ব্রড ২/৬৬, ওকস ১/৬৫)

ইংল্যান্ড: ৪১.৫ ওভারে (মইন ১০, বেল ৩৬, ব্যালান্স ১০, রুট ৫, মর্গ্যান ০, টেইলর ৯৮, বাটলার ১২, ওকস ৩৭, ব্রড ০, ফিন ১, অ্যান্ডারসন ৭*; মার্শ ৫/৩৩, জনসন ২/৩৬, স্ট্যার্ক ২/৪৭)

ম্যাচ সেরা: অ্যারন ফিঞ্চ।

লঙ্কাকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিউ জিল্যান্ডের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মধুর প্রতিশোধ নিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে নিউ জিল্যান্ড। বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে গত দুইবারের রানার্সআপদের সহজেই হারিয়েছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।
কোরি অ্যান্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও কেন উইলিয়ামসনের অর্ধশতকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৩২ রানের লক্ষ্য দেয় নিউ জিল্যান্ড। পরে বোলারদের দাপটে ৯৮ রানে ম্যাচটি জিতে নেয় তারা।

গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছেই হেরে বিদায় নিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। ১৯৯২ সালের আসরের পর থেকে এই দলটির কাছে অজেয় ছিল শ্রীলঙ্কা।

এবার জিততে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হতো মাহেলা জয়াবর্ধনে-কুমার সাঙ্গাকারাদের দলটির। মাত্র সাতবার তিনশ’ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ার কৃতিত্ব রয়েছে শ্রীলঙ্কার। ২০০৬ সালে লিডসে ২ উইকেটে ৩২৪ রান তাড়া তাদের সেরা।

শনিবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ‘এ’ গ্রুপের খেলায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩৩১ রান করে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে ৪৬ ওভার ১ বলে ২৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

তিলকারতেœ দিলশানের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়ে দলকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন লাহিরু থিরিমান্নে। ফিরতি ক্যাচ নিয়ে দিলশানকে (২৪) বিদায় করে ১৩ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ড্যানিয়েল ভেটরি।

দ্বিতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারার সঙ্গে ৫৭ রানের আরেকটি জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন থিরিমান্নে। তাকে বোল্ড করে ৯ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন ট্রেন্ট বোল্ট।

সর্বোচ্চ ৬৫ রান করা থিরিমান্নের ৬০ বলের ইনিংসটি সাজানো ৮টি চারে।

তার বিদায়ের পরই দিক হারায় শ্রীলঙ্কা। জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারার বিদায়ে বিপদে পড়ে দলটি।

ভেটরির বলে লুক রনকির গ্লাভসবন্দি হয়ে শূন্য রানে ফিরেন জয়াবর্ধনে। ৩৯ রান করে বোল্টের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান সাঙ্গাকারা। এই ইনিংস খেলার পথে রিকি পন্টিংকে পেছনে ফেলে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ও বিশ্বকাপে এক হাজার রানের কৃতিত্ব দেখান তিনি।

দিমুথ করুনারতেœকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। কিন্তু জোড়া আঘাতে করুনারতেœ ও জিবন মেন্ডিসকে বিদায় করে নিউ জিল্যান্ডকে সহজ জয়ের দিকে নিয়ে যান অ্যাডাম মিল্ন।

ম্যাথিউস (৪৬) ছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় বড় হার এড়াতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।

নিউ জিল্যান্ডের অ্যান্ডারসন, ভেটরি, টিম সাউদি, মিল্ন ও বোল্ট দুটি করে উইকেট নেন।

দিনের শুরু থেকেই আকাশ ছিল পুরোপুরি মেঘে ঢাকা। আবহাওয়া পেস বোলিংয়ের অনুকূলেই ছিল। কিন্তু সেই সুবিধা নিতে পারেননি শ্রীলঙ্কার পেসাররা।

উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। মার্টিন গাপটিলের সঙ্গে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দারুণ উদ্বোধনী জুটি স্বাগতিক দর্শকদের আনন্দে মাতায়।

মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই কাভার দিয়ে চার হাঁকিয়ে অতিথিদের নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক জানিয়ে দেন, সামনে কী অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।।

গাপটিলের (৪৯) সঙ্গে ১১১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে নিউ জিল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ম্যাককালাম। রঙ্গনা হেরাথের বলে সীমানায় জিবন মেন্ডিসের হাতে তিনি ধরা পড়লে ভাঙে ১৫.৫ ওভার স্থায়ী জুটি।

৬৫ রান করা ম্যাককালামের ৪৯ বলের ইনিংটি ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় গড়া। এর মধ্যে লাসিথ মালিঙ্গার করা অষ্টম ওভারে নেন ২২ রান। সেই ওভারে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক।

তৃতীয় উইকেটে রস টেইলরের সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন দারুণ ছন্দে থাকা উইলিয়ামসন। তাদের ১১.১ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙ্গার কৃতিত্ব মেন্ডিসের। জোড়া আঘাতে এই দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

৬৫ বলে খেলা উইলিয়ামসনের ৫৭ রানের ইনিংসটি সাজানো ৫টি চার ও ১টি ছক্কায়। শেষ ১৯ ইনিংসে এ নিয়ে ১৩টিতে পঞ্চাশোর্ধ রান করলেন ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

অবশ্য শূন্য রানেই ফিরে যেতে পারতেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপের শুরুটা স্বপ্নের মতো হতে পারতো সুরঙ্গা লাকমালের। প্রথম বলেই উইকেট পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু উইলিয়ামসনের ব্যাট ছুঁয়ে আসা ক্যাচটি গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি সাঙ্গাকারা।

১৯৩ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর দলকে সাড়ে তিনশ’ রানের দিকে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব অ্যান্ডারসনের। গ্রান্ট এলিয়টের (২৯) সঙ্গে ৬১ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়ে জোড়া উইকেট হারানোর ধাক্কা সামাল দেন তিনি।

এরপর রনকির সঙ্গে মাত্র ৩৭ বলে ৭৩ রানের আরেকটি দারুণ জুটি উপহার দেন অ্যান্ডারসন।

শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৭৫ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৪৬ বলে খেলা তার ৭৫ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসটি ৮টি চার ও ২টি ছক্কা সমৃদ্ধ। ৪৩ রানে লাকমালের বলে কাভারে মেন্ডিসকে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান অ্যান্ডারসন।

তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ১৪ ওভারে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। মাত্র ১৯ বল খেলা রনকি অপরাজিত থাকেন ২৯ রানে। মালিঙ্গার বলে একবার বোল্ড হলেও ‘নো’ বলের কল্যাণে ১৬ রানে বেঁচে যান তিনি।

শ্রীলঙ্কার লাকমল ও মেন্ডিস দুটি করে উইকেট নেন। ভালো করতে পারেননি মালিঙ্গা। এই পেসার ১০ ওভারে দেন ৮৪ রান, কোনো উইকেটও পাননি।

অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন অ্যান্ডারসন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩০৮/৬ (গাপটিল ৪৯, ম্যাককালাম ৬৫, উইলিয়ামসন ৫৭, টেইলর ১৪, এলিয়ট ২৯, অ্যান্ডারসন ৭৫, রনকি ২৯*; মেন্ডিস ২/৫, লাকমাল ২/৬২, হেরাথ ১/৩৭, কুলাসেকারা ১/৭৮)

শ্রীলঙ্কা: ৪৬.১ ওভারে (থিরিমান্নে ৬৫, দিলশান ২৪, সাঙ্গাকারা ৩৯, জয়াবর্ধনে ০, করুনারতেœ ১৪, ম্যাথিউস ৪৬, মেন্ডিস ৪, কুলাসেকারা ১০, হেরাথ ১৩, মালিঙ্গা ০, লাকমাল ৭; অ্যান্ডারসন ২/১৮, ভেটরি ২/৩৪, সাউদি ২/৪৩, মিল্ন ২/৫৬, বোল্ট ২/৬৪)

ম্যাচ সেরা: কোরি অ্যান্ডারসন।

ইতিহাস ভারতের পক্ষে জয় চায় পাকিস্তান /৩ খেলা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারত পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই উত্তেজনার বারুদে ঠাসা প্রতিটি ক্ষণ। খেলা শুরুর আগেই উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পড়ে দুই ভাগে। ম্যাচের আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় কথার লড়াই দুই দলের খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের মধ্যে। সত্যি হলো ভারত পাকিস্তান ম্যাচটি শুধুই একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয় দুই দেশের মর্যাদার লড়াইও।

আবার এই ক্রিকেট দিয়ে কুটনৈতিকভাবেও কাছে আসার চেষ্টা করেছিল দুই দেশ। মোহালিতে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি পাশাপাশি বসেই দুই দলের খেলা উপভোগ করেছেন। উদ্দেশ্য একটাই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া।

বিশ্বকাপে মঞ্চে এই পর্যন্ত ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানি সমর্থকদের এনিয়ে শুনতে হচ্ছে না কম টিপ্পনি, পাকিস্তানের এই ব্যর্থতা এখন রসিকতার পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। পাকিস্তানের পরাজয় নিয়ে বিজ্ঞাপনও বানিয়ে ফেলেছে ভারত।
ইতিহাস, রাজনৈতিক বিরোধ এবং ক্রিকেটীয় উত্তাপ সব কিছুর সমীকরণ ২২ গজেই মেলাতে হয় দু’দলের ক্রিকেটারদের। স্নায়ুক্ষয়ী এই লড়াইয়ে কাউকে এককভাবে ফেভারিট তকমাটাও দিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অতীত নিয়ে ভাবতে চায়ছে না পাকিস্তান
বিশ্বকাপে ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দি। কিন্তু পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ উল হককে একটিই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেটা হলো ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে আদৌ জয় পাবে কি না তার দল। এ ধরনের উত্তরে বেশ মাথা ঠান্ডা রেখেই বললেন, ‘যা হয়েছে অতীত আমরা এখন সামনের দিকে তাকাতে চাই।’

মাঠেই পারর্ফম করতে চান ধোনি
পাকিস্তানের বিপক্ষে শতভাগ রেকর্ড থাকার পরেও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে চায়ছেন না ভারতের অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি। তার কথা হলো, ‘পরিসংখ্যান দিয়ে আসলে কিছু হয় না, আপনি যদি মাঠে ভালো খেলতে না পারেন তাহলে আপনাকে হারতে হবে এখন রেকর্ড নিয়ে না ভেবে শুধু খেলা নিয়ে ভাবছি।’

কিছুটা এগিয়ে পাকিস্তান
সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় নিলে কিছুটা এগিয়ে মিসবাহ উল হকের পাকিস্তান। প্রস্তুতি ম্যাচে ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ জিতে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান। তাদের টপ অর্ডার রান না পেলেও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ফর্মে আছেন।

সাম্প্রতিক পারর্ফম্যান্স ভারতের দুঃশ্চিন্তার কারণ
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট সিরিজে হার এবং ত্রি দেশীয় সিরিজে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল ভারত। অস্ট্রলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ধোনিরা অস্ট্রেলিয়া এসেছে লম্বা সফরে কিন্তু শুধুমাত্র দুর্বল আফগানিস্তান ছাড়া এখনো জয়ের দেখা পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় খরা দুঃশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ভারতের টিম ম্যানেজম্যান্টকে।

পেস বোলিং নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ভারত
সবচেয়ে অনভিজ্ঞ পেস অ্যাটাক নিয়েই পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপুর্ন ম্যাচে নামতে হচ্ছে ভারতকে। ইনজুরির কারণেই ইশান্ত শর্মা আগেই দেশে ফিরে গেছেন এদিকে আগামীকালের ম্যাচে ইনজুরির জন্যে ভুবেনশ্বর কুমারও অনিশ্চিত।

অস্ট্রেলিয়া মাটিতে জয় পাল্লা ভারী ভারতের
গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারত পাকিস্তানে বিপক্ষে জয় পেয়েছে চারটি অন্যদিকে পাকিস্তান জিতেছে তিনটিতে।

সম্ভাব্য একাদশ ভারত: শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, আজিঙ্কা রাহানে, মাহেন্দ্র সিং ধোনি, রবীন্দ্র জাদেজা, স্টুয়ার্ট বিনি/ মোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন আশ্বিন এবং উমেশ যাদব

সম্ভাব্য একাদশ পাকিস্তান: নাসির জামশেদ, আহমেদ শেহজাদ, ইউনিস খান, শোয়েব মাকসুদ হারিস সোহাইল, মিসবাহ-উল – হক, উমর আকমল, শহীদ আফ্রিদি, ওয়াহাব রিয়াজ, এহসান আদিল/ সোহাইল খান, মোহাম্মদ ইরফান।

শেয়ার