চরম খরার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র

US
সমাজের কথা ডেস্ক॥ আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের অনেক সমতল এলাকা অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে থাকায় চরম খরা দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একহাজারেরও বেশি বছরের মধ্যে এত বড় খরার ঝুঁকি আর দেখা যায়নি, বলছেন বিজ্ঞানীরা।

ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঞ্চল এরই মধ্যে অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। তবে দ্বাদশ ও ত্রায়োদশ শতাব্দীর মতো অবস্থা এখনো হয়নি। তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, মৌসুমের আগেই এই খরা আগামী দিন গুলোতে আবারো অতীতের মতো অবস্থা সৃষ্টির আভাস দিচ্ছে।

নাসার বিজ্ঞানী বেন কুক বলেন, “একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীর ভয়ঙ্কর শুষ্ক অবস্থা টানা ২০, ৩০, ৪০ ও ৫০ বছর ধরে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অত ভয়ঙ্কর শুষ্ক অবস্থা আর কখনো হয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “১৯৩০ সালে বা ১৯৫০ সালের শুষ্ক অবস্থা অথবা বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যে শুষ্ক অবস্থা দেখা দিয়েছে তা কয়েক বছর বা খুব বেশি হলে এক দশক ধরে চলবে বলে সবাই ধারণা করছে। কিন্তু কল্পনা করুন, ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন যে শুষ্ক অবস্থা চলছে সেটা আরো ২০ বছর স্থায়ী হলে কি হবে?”

বায়ুমণ্ডলে ক্রমাগত গ্রিণহাউজ গ্যাস বাড়তে থাকার কারণেই আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চল শুষ্ক হয়ে পড়ছে বলে মত অধিকাংশের। ড. কুক তার গবেষণায় এ অতিরিক্ত শুষ্কতার করণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সালের পর আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের সমতল ভূমি আরও শুষ্ক হয়ে পড়বে এবং তা দ্বাদশ ও ত্রায়োদশ শতকের ভয়ঙ্কর খরাকেও ছাড়িয়ে যাবে।

দুইটি কারণে ওই শুষ্ক অবস্থার সৃষ্টি হবে। কারণ দুইটি হল: বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত কমে যাওয়া এবং তাপ বৃদ্ধির কারণে বাষ্পীয়ভবন বেড়ে যাওয়া।

‘সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নাল’য়ে গবেষণাটি প্রকাশ পায়। ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্সের বৈঠকে এই গবেষণা পত্রটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শেয়ার