ইসলামে বিশ্বাসীরা কিভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

PM

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ‘নিজেদের স্বার্থে’ রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মারছে সৃষ্টিকর্তা তাদের ‘সুমতি’ দেবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো যন্ত্রণা মানুষ মানুষকে কিভাবে দেয়?
“যারা ইসলাম ধর্ম পালন করে- তারা কিভাবে মানুষ মারে?”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ‘অপকর্মের’ বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করার জন্য মাশায়েখ ও আলেমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখানে আলেম- মাশায়েখরা এসেছেন। আপনাদের কাছে আমি এই বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম।
“আল্লাহ তাদের (২০ দলীয় জোট) সুমতি দিক।”
ইসলামকে আধুনিক, শান্তি ও প্রগতির ধর্ম হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “যারা ইসলাম ধর্মের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে, তারা ইসলামের বদনাম করছে।”
“তারা কি মানবতার দিকে একবারও ফিরে তাকাবে না?”
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলন-২০১৫’ এর আয়োজন করে।

বিশ্ব ইজতেমার সময়ও অবরোধ প্রত্যাহার না করায় দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “কি দুর্ভাগ্য আমাদের! ইজতেমার সময়ও অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে।

“এরা হরতাল আর অবরোধের নামে শত শত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ইসলাম ধর্মের কোনো সম্মান দেয় না।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘চুরির টাকা রক্ষা করতেই মানুষ পুড়িয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস’ করতে চাচ্ছেন- মন্তব্য করে তিনি বলেন, “উনি বিচারের সম্মুখীন হতে ভয় পান।”

বর্তমানে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে, যে দুই মামলায় খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েক নেতা আসামি।

বিএনপি-জামায়াত জোটের গত এক মাসের বেশি সময়ের অবরোধে গাড়িতে আগুন, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও হাতবোমার বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশকেই আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।

নাশকতায় প্রাণহানিতে দুঃখপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে সকল ঘটনা বাংলাদেশে ঘটছে- তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।

“বাংলাদেশে এখন যে তাণ্ডব হচ্ছে- পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ মারছে, আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এরা কি প্রকৃত মুসলমান?”

এসময় উপস্থিত সবাই একসাথে ‘না’ বলে ওঠেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যের শুরুতেই সুফি দর্শন নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনই হল সুফি দর্শনের মর্মকথা। পরম সত্তা মহান আল্লাহকে জানার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন।

“স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আধ্যাত্মিক ধ্যান ও জ্ঞানের মাধ্যমে জানার প্রচেষ্টাকে সুফি দর্শন বা সুফিবাদ বলা হয়।
“অলি-আউলিয়ার মাধ্যমেই এক সময় আমাদের এই জনপদে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল।”
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, ভারতের রাজস্থানের আজমীরের খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর দরগাহর সভাপতি ওয়াহিদ হোসেন চিশতী, দিল্লির নিজামউদ্দিন আউলিয়ার দরগাহের সভাপতি সৈয়দ নজিব আল নিজামী, তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ রেজাউল হক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক তৈয়বুর বশর মাইজভান্ডারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াহিদ হোসেন চিশতী তার বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রীকে আজমীর থেকে আনা একটি ওড়না পরিয়ে দেন।
পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার