রাজপথে থাকার পুরস্কার পেলেন শাহীন চাকলাদার

shahin vhi
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যশোর জেলা শাখায় দ্বিতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। গতকাল ঐতিহাসিক যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি এ দায়িত্ব পেয়েছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও লালন শাহ্রে স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার সন্তান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ যশোর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শাহীন চাকলাদারের নাম ঘোষণা করেন। আর এরমধ্যে দিয়েই গত এক যুগ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বে থাকা শাহীন চাকলাদার আবারও দায়িত্ব পেলেন। জনগণ এ দায়িত্বভারকে ‘রাজপথের আন্দোলনের’ পুরষ্কার হিসেবে দেখছেন।
দলের দুর্দিনে অর্থাৎ ২০০৩ সালে তৃণমূলের সরাসরি ভোটে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শাহীন চাকলাদার। ২০০২ সালে তিনি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। এরআগে ১৯৯৮ সালে তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি শহর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি
ছাত্রজীবন থেকেই পারিবারিকসূত্রে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় এবং বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম, কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। আর সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয়বারের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠন যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। এ দায়িত্বকে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ দীর্ঘ একযুগের রাজপথে লড়াই সংগ্রামের সাহসী ভূমিকার পুরস্কার হিসেবে দেখছেন। কর্মীদের অভিমত বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০৩ সালে সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে যশোরের রাজপথ কাঁপিয়েছেন। হামলা, মামলা, নির্যাতন সহ্য করেছেন। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেখানে বিপদ দেখেছেন সেখানে ছুটে গেছেন। ‘দুঃশাসনের’ সেই ৩ বছর শেষে ২০০৬ সালে ১/১১ এর সময় তার নামে মামলা দিয়ে তাকে ‘শায়েস্তা’ করার অপচেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু ভেঙ্গে পড়েননি শাহীন চাকলাদার। সেসময়ও সমানতালে রাজপথে থেকেছেন। কারাগারে বন্দি দলের সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি দাবি করে আন্দোলন করেছেন। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত ৬ নেতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাদেরকে বিজয়ী করতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন। এছাড়া মহাজোট সরকারের আমলে বিএনপি জামায়াত জোট দেশে যে অস্থিরতা তৈরি করতে একের পর এক নাশকতা কর্মকান্ড করছিলো যশোরে শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে এর বিরুদ্ধে শক্তভূমিকা রাখা হয়। আর যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সর্বদা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এ নেতা। এসময় জামায়াত শিবির যে তান্ডব করার চেষ্টা করেছিলো শাহীন চাকলাদার রাজপথে থেকে তা প্রতিহত করেন। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপি জামায়াত নাশকতা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এসব আন্দোলনের কারণে যশোরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি পাওয়ার সাথেসাথে কর্মীদের মনোবল বেড়ে যায়। এ বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দৃষ্টিগোচর হলে প্রশংসিত হন শাহীন চাকলাদার। গতকাল জেলা সম্মেলনে এসে অতিথিবৃন্দের বক্তব্যেও সেটা বারবার চলে আসে। শাহীন চাকলাদারের সাহসী ভূমিকা ও নেতৃত্বকে বারবার প্রশংসা করা হয়। আর কর্মীদের ভাষায় রাজপথের এ সাহসী নেতাকে তাই পুনরায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

শেয়ার