নিউজিল্যান্ডের প্রতিশোধ না শ্রীলঙ্কার ধারাবাহিকতা?

newzealand Srilanka
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই রয়েছে রোমাঞ্চকর ক্রিকেটের হাতছানি। ওয়ানডের সেরা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই শক্তিশালী দল নিউ জিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় খেলা শুরু হয়েছে।

দারুণ ছন্দে আছে নিউ জিল্যান্ড। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর তৃতীয় ফেভারিট হিসেবে দেখছেন বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক নিউ জিল্যান্ডকে।

দেশের মাটিতে বরাবরই ফেভারিট নিউ জিল্যান্ড। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারানোয় ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গেই। তাই মধুর প্রতিশোধের অপেক্ষায় আছে দলটি। গতবার সেমি-ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা।

এক বছরের বেশি সময় ধরে এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নেয় নিউ জিল্যান্ড। ২০১৩ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে এসে দলের কোচ মাইক হেসন জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। প্রস্তুতি ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের সহজ জয়ই জানান দেয়, কতটা প্রস্তুত নিউ জিল্যান্ড।

নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন লাইনআপ দারুণ শক্তিশালী। উড়ন্ত সূচনা এনে দিতে টপ অর্ডারে আছেন একজন মার্টিন গাপটিল। লড়াইয়ের পুঁজি গড়ার ভিত এনে দিতে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো দারুণ একজন ব্যাটসম্যান আছে। রস টেইলর ইনিংস পুনর্গঠন বা প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেয়ার কাজ করতে পারেন অনায়েস দক্ষতায়। আর আছেন দারুণ প্রতিভাবান কেন উইলিয়ামস। লুক রনকি, গ্রান্ট এলিয়টরাও হুমকি হয়ে উঠতে পারেন শ্রীলঙ্কার জন্য।
সহায়ক উইকেটে গতির ঝড় তোলার সামর্থ্য আছে টিম সাউদি, কাইল মিলস, ট্রেন্ট বোল্ট, অ্যাডাম মিলনে, মিচেল ম্যাকক্লেনাগানদের। যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপের পরীক্ষা নেয়ার সামর্থ্য আছে তাদের।

নিউ জিল্যান্ডের পেসাররা তরুণ ও প্রাণবন্ত। তাদের গতি, দক্ষতা, সুইং সবই রয়েছে। ম্যাচর দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তাপমাত্রও ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হবে না। এই ধরনের পরিস্থিতি পেসারদের ভূমিকা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে ইতিহাসকে পক্ষে পাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ১৯৯২ সালের আসরের পর বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের কাছে হারেনি তারা। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবেন দলটির অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা শ্রীলঙ্কার সবচেয় বড় শক্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা ও তিলকারতেœ দিলশানের উপস্থিতি। ভালো শুরু এনে দিতে দিলশানের ওপর নির্ভর করতে পারে তারা। আর জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারা পারেন সব হিসেবে-নিকেশ পাল্টে দিতে।

অভিজ্ঞ এই ত্রয়ীকে সহায়তা দেয়ার জন্য লাহিরু থিরিমান্নে, দিমুথ করুনারতেœর মতো তরুণরাও দলে আছেন।

লাসিথ মালিঙ্গা একাই যে কোনো দলের সঙ্গে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। চোট কাটিয়ে এই পেসার বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জের জন্য পুরো প্রস্তুত। সঙ্গে পাচ্ছেন সুরঙ্গা লাকমাল, নুয়ান কুলাসেকারাদের।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাত ম্যাচের সিরিজ ৪-২ ব্যবধানে হারলেও এবার জয়ের আশা ছাড়ছেন না শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

তিনি জানান, উইকেট ভালো হলে তারা আগে ব্যাট করার চেষ্টা করবেন। প্রতিপক্ষকে থামানোর সামর্থ্য তার দলের বোলারদের রয়েছে। আর আগে বল করলেও সমস্যা হবে না। লক্ষ্য তাড়া করার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তাদের ব্যাটিং লাইন আপের আছে।

শেয়ার