শিল্পকর্মের বাজারে পিকাসো নাতনি আতঙ্ক

marina
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ম্যারিনা পিকাসোর শৈশব কেটেছে দারিদ্রের মধ্যে। ওই সময় বাবার হাত ধরে কিছু ভাতার আবেদন নিয়ে দীর্ঘসময় পিতামহ পাবলো পিকাসোর বাড়ির ফটকে বসে থাকতেন তিনি। পিকাসো পরিবারে জন্ম নেয়াকে যিনি সবসময় বোঝা হিসেবেই মনে করেছেন।

ম্যারিনা যখন ২০ বছর বয়সী তরুণী তখন হঠাৎ করেই পিকাসোর বিখ্যাত বাড়ি লা ক্যালিফোর্নিয়াসহ তার চিত্রকর্মের বিশাল ভান্ডারের একাংশের মালিক হয়ে যান তিনি। ওই সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে ম্যারিনা নিজের ভাগের চিত্রকর্মগুলো দেয়ালের দিকে মুখ করে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।

এখন ম্যারিনার বয়স ৬৪ বছর। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন দাতব্য কাজের জন্য তিনি নিজের সংগ্রহে থাকা পিকাসোর চিত্রকর্মগুলো বিক্রি করে দেবেন। এর আগেও নিজের এবং নিজের দাতব্য সংস্থার জন্য পিতামহের চিত্রকর্ম বিক্রি করেন ম্যারিনা।

কিন্তু ২০০৮ সালে তার দীর্ঘদিনের ডিলার সুইজারল্যান্ডের জন ক্রুগারের মৃত্যুর পর ছবি বিক্রির জন্য তাকে নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

২০১৩ সালে ম্যারিনা পিকাসোর দুইটি বড় চিত্রকর্ম নিলামে তুলেছিলেন। এছাড়া, গত বছর প্যারিসে পিকাসোর ‘নগ্ন চিত্রকর্মগুলোর’প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া চিত্রকর্মগুলোর অধিকাংশই বিক্রি করে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত ম্যারিনা নিয়েছেন, তা বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ম্যারিনার প্রায় ১০ হাজার চিত্রকর্ম বিক্রির সিদ্ধান্তে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টেক্সাসের স্যাম হসটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এনরিক মলেন বলেন, “পিকাসোর চিত্রকর্মের অন্যান্য মালিকরা যেখানে কালেভাদ্রে সেগুলো বিক্রি করেন সেখানে একমাত্র ম্যারিনা পিকাসোকেই মনে হচ্ছে তিনি চিত্রকর্মগুলো ‘অতিদ্রু ত‘ বিক্রি করে দিতে চাইছেন।”

পিকাসোর চিত্রকর্ম খুঁজে বের করতে ‘অনলাইন পিকাসো প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্পের উদ্যোক্তা মলেন।

সম্প্রতি মার্সেইতে একটি হাসপাতালের নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলেন ম্যারিনা। ওই হাসপাতালের মনরোগ বিভাগের পৃষ্ঠপোষক তিনি। ওই বিভাগে সংকটে থাকা কিশোর-কিশোরীদের চিকিৎসা করা হবে।

সেখানে প্রথমবারের মত জনসম্মুখে নিজের এই উদ্যোগের ব্যাখ্যায় ম্যারিনা বলেন, “এ কাজগুলো বিক্রি করে অর্থ জমা করা এবং সেই অর্থ মনবতার জন্য ব্যয় করাই আমার কাছে ভাল মনে হয়েছে।”

“আমার কাছে চিত্রকর্মগুলো আছে এবং অবশ্যই আমি সেগুলো এ ধরনের প্রকল্পে সাহায্য করতে ব্যবহার করতে পারি।”

ম্যারিনার এ পদক্ষেপের খবর বিশেষ মহলে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এ থেকে নানা ধরনের গুঞ্জন ও গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি একটি ট্যাবলয়েডে প্রকাশ পায়, ম্যারিনা তার পিতামহের বাড়ি ও সাতটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম বিক্রি করে দিতে যাচ্ছেন।

আবার অনেকে ভাবছেন, ম্যারিনার এই সিদ্ধান্তের কারণে পিকাসোর চিত্রকর্মে বাজার ভরে যাবে এবং এগুলোর দাম পড়ে যাবে।

শেয়ার