যশোর আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সহিংসতার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানের শপথ

lead
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানের শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতা আর জঙ্গিবাদি তৎপরতা রুখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ক্ষমতার লোভে সাবেক বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া দেশকে আজ এক ক্রান্তি লগ্নের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিজেরা রাজপথে না থেকে অর্থ দিয়ে বোমাবাজদের ভাড়া করে বাসের মধ্যে, ট্রাকে ট্রেনে, লঞ্চের মধ্যে পেট্রোল বোমা মেরে তারা মানুষ হত্যা করছে। তাদের কিছু না বলে এদেশের সুশীল সমাজ সংলাপের তাগিদ দিচ্ছে। কিন্তু যারা বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে, তাদের সাথে আওয়ামী লীগ কোন সংলাপে যাবে না। বর্তমান দেশে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটা রাজনৈতিক সমস্যা। তাই এই সংকটকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এজন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এদের মোকাবেলা করতে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন। জেলা আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। তাকে সহযোগিতা করেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান ও দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করে প্রধান অতিথি আরো বলেন, ক্ষমতার লোভে তিনি বোতলের মধ্যে থেকে জঙ্গিবাদের জ্বীনকে ছেড়ে দিয়েছেন। টাকা দিয়ে সমর্থন দিয়ে তাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে তৎপর রয়েছেন। ইতিমধ্যে এক হাজার ৮০টি বাসে, ১২টি লঞ্চে ও ১১টি ট্রেনে তারা হামলা চালিয়েছে। এভাবে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ খুন করা কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ মেনে নিতে পারে না।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন দেশে ৩৬ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে আমরা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। তিন হাজার ২০০ কিলোওয়াট বিদ্যুতকে আমরা বর্তমানে ১১ হাজার কিলোওয়াটে উন্নীত করেছি। ১৬ বিলিয়নের রপ্তানিকে ৩২ বিলিয়নে নিয়ে গিয়েছি। জাতীয় মাথাপিছু আয় ৪০ ডলার থেকে বর্তমানে এক হাজার ২০০ ডলারে পৌছেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বঅর্থনীতিতে রোল মডেল হয়েছে। এক সময় বাংলাদেশকে অবজ্ঞার চোখে দেখা হলেও আজ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এভাবে এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ ২০২১ সালের অনেক আগেই মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে।
মাহবুব উল আলম হানিফ আরো বলেন, এই গতি রোধ করতে খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিদের সাথে নিয়ে তিনি সারা দেশে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এরই মধ্যে সংলাপের দাবি তুলেছে সুশীল সমাজ। পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারার কারণে যদি সংলাপ করতে হয়, তাহলে বিএনপিকে এই হত্যার দায় আগে স্বীকার করতে হবে। কিন্তু বিএনপি তো বলছে, তারা নাকি এই পেট্রোল বোমা মারেনি। তাহলে তো তাদের সাথে সংলাপ করে কোনো লাভ হবে না। বিএনপি জামায়াত যদি পেট্রোল বোমা না মারে তাহলে যে ‘ভূত’ এই বোমা ছুঁড়ছে তাদের সাথে সংলাপ করতে হবে। এসময় তিনি বিএনপির সাথে কোন ধরণের সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন।
প্রধানবক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) সংসদ সদস্য এবিএম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালে যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রক্ষমতার অংশিদার করেন। তাদের নিয়ে বর্তমানে খালেদা জিয়া সহিংসতা ছড়িয়ে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চাইছেন। কিন্তু সেটা এদেশের মুজিব সেনারা হতে দেবে না। সম্মেলনকে উৎসব মুখর করে তোলার জন্য শাহীন চাকলাদারকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুরু করেন।
সাবেক খাদ্য মন্ত্রী সংসদ সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক তার বক্তব্যে গণতন্ত্রের ভাষা না বোঝা বিএনপিকে দেশবাসীর জন্য চরম আপদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রায় এক যুগ পর অনুষ্ঠিত যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তা রাখেন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান সিরাজ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম ও এস এম কামাল হোসেন।
বিশেষ বক্তব্য হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, বাঘারপাড়া শাখার সভাপতি যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক আবদুল মজিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক কামরুল হাসান বারী।
এর আগে রাত থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন, প্লাকার্ডসহ খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সম্মেলন স্থলে জড়ো হতে শুরু করে। সকাল হওয়ার সাথে সাথে গোটা এলাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানের মধ্যে দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়। যশোরে উৎসবমুখর পরিবেশে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন সভাপতি এবং শাহীন চাকলাদার পুনরায় সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন।

শেয়ার