তৃণমূলের প্রত্যাশা নতুন নেতৃত্ব দশ বছর পর বাগেরহাট জেলা আ’লীগের সম্মেলন শনিবার

aowamilig
কামরুজ্জামান, বাগেরহাট থেকে॥ বাগেরহাটে দীর্ঘ দশ বছর পর আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল। শহরতলীর খানজাহান আলী কলেজ মাঠের এই কাউন্সিলকে ঘিরে তৃর্ণমুলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন। এই অবস্থায় বয়সের ভারে ও স্বাস্থ্যগত কারনে বর্তমান জেলা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তাদের পদ ধরে রাখতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। কাউন্সিলরদের দাবীর মুখে গোপন ব্যালটে গনতান্ত্রিক ভাবে বিষয়টির ফয়সালা হলে দলের র্শীষ এ দু’পদে আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে নতুন মুখের। সে ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন রাকসু’র সাবেক ভিপিও বাগেরহাট সদরের এমপি এ্যাড. মীর শওকাত আলী বাদশা। এমনটিই দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে তারা একক ভাবে কাউকে এগিয়ে রাখেননি।
বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানাগেছে, সর্বশেষ ২০০৫ সালের ৭এপ্রিল বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন ডা: মোজাম্মেল হোসেন ও প্রথম বারের মতে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন জাসদের সাবেক নেতা শেখ কামরুজ্জামান টুকু। বর্তমান এই কমিটিই প্রায় দশ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ইতিমধ্যে কাউন্সিলকে সামনে রেখে জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌর সভার ১১টি ইউনিটের মধ্যে ১০টির সম্মেলন শেষ হয়েছে। খোদ জেলা সভাপতি ও সমাজকল্যান মন্ত্রনালয় সম্পর্র্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা: মোজাম্মেল হোসেন এমপি তার নির্বাচনী এলাকা মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তিনি নিজেই কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেকারনে এদু’টি ইউনিটে কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। ৩৪ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা ডা: মোজাম্মেল বয়সের ভারে এতটাই অসুস্থ্য যে দীর্ঘ দিন ধরে তাকে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এদিকে খুলনা মহানগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ কামরুজ্জামান টুকুও বয়সের ভারে ও স্বাস্থ্যগত কারনে দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ্য। তিনি নিয়মিত বাগেরহাট আসতে পারেন না,- দলকে প্রয়োজনীয় সময়ও দিতে পারেন না। এমনই অভিযোগ রয়েছে দলের তৃর্ণমুলের নেতাকর্মীদের। এই অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের তৃর্ণমুলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন। অনেকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, তারা চান বাগেরহাটে দলকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন নতুন নেতৃত্বের।
বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের ভিতরের খবর রাখেন এমন একাধিক সূত্রে জানাগেছে, এবারের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে প্রাথীদের মধ্যে রয়েছেন নতুন-পুরাতন একাধিক প্রার্থী। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ডা: মোজাম্মেল, বর্তমান সাধারন সম্পাদক টুকুর পাশাপাশি জোরেসোরে আলোচিত হচ্ছে বাগেরহাট সদর আসনের এমপি এ্যাড. মীর শওকাত আলী বাদশার নাম। একই সাথে সাধারন সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারন সম্পাদক টুকু, এমপি মীর শওকাত আলী বাদশার পাশাপাশি বাগেরহাট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি খান মুজিবর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সরদার ফকরুল আলম সাহেব ও রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রউফের নাম আলোচিত হচ্ছে। নতুন প্রার্থীদের পক্ষের কাউন্সিলরা চাচ্ছেন গনতান্ত্রিক উপায়ে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে গ্রহণযোগ্য নেতাদের নির্বাচন করতে। এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসছে। তবে আবার অনেকের মতে পূর্বের কমিটিই বহাল থাকতে পারে।
দলীয় র্শীষ পদে প্রার্থিতার বিষয়ে বাগেরহাট সদরের এমপি মীর শওকাত আলী বাদশা বলেন, ১৯৬৯ সালে রাকসুর ভিপি ছিলাম, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের নিয়ে উন্নয়নের কাজ করেছি। এঅবস্থায় দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী ও গতিশীল ভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কোন সিদ্ধান্ত বা তৃনমূলের নেতাকর্মীসহ কাউন্সিলরা যেদায়িত্ব দেবে তা নিষ্ঠার পালন করব। বাগেরহাটে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেব।
এঅবস্থায় বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু প্রার্থী হবেন কিনা জানাতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে তিনি কোন পদে প্রার্থী হতে চান না। তবে সম্মেলনে তৃনমূল নেতাকর্মীরা তার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই তিনি মেনে নেবেন। সেক্ষেত্রে দলীয় নেতা কর্মীরা কোন পদে তাকে বেছে নিবেন তা নেতাকর্মীদের বিষয়। তিনি আরও বলেন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কোন কিছইু করতে আগ্রহী নন।

শেয়ার