তালার ডুমুরিয়া মা. স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি দুই দলের দুই নেতা হাতিয়েছেন ১৩ লাখ॥ টাকা ফেরত চেয়ে বিএনপি নেতার হুমকিরমুখে এক চাকরি প্রার্থী

Durniti
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরার তালা উপজেলা ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নামে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই নেতা হাতিয়ে নিয়েছে দুই প্রার্থীর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা এমএম ফজলুল হক হলেও নিয়োগ পরীক্ষার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করলেন বিএনপি নেতা খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী।
চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য এবং খেশরা ইউনিয়ন বিএনপি‘র সহ-সভাপতি। দুই জনের কাছ থেকে টাকা নেয়া হলেও বেশি টাকা দেয়ায় প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তৃতীয় বিভাগ সার্টিফেকেটধারী পরিতোষ কুমার দাশ নামে এক ব্যক্তিকে। ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী দুই শিক্ষককে শূন্যপদে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে মাস দেড়েক আগে হাতিয়ে নেন ১৩ লাখের অধিক টাকা। সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিয়েও চাকরী না হওয়ায় এক প্রার্থী প্রহৃদ চন্দ্র হালদার শিক্ষক নিয়োগটি অধৈবভাবে ও অনিয়মের মাধ্যমে করা হয়েছে দাবি করে বুধবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহপরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে জানাযায়, তালা উপজেলার ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন শূণ্য ছিল। গত ১৫ জানুয়ারী বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকসহ ৫ জন প্রাথী ওই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। নিয়োগ পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষক প্রহৃদ চন্দ্র হালদার ও পরিতোষ কুমার দাশ যৌথভাবে প্রথম হয়েছে এমন দাবি করে নিয়োগ বোর্ডের ডিজি প্রতিনিধি তালা বিদে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী রফিক ওইদিনই প্রকাশ্যে ফলাফল ঘোষণা করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী প্রহৃল চন্দ্র হালদারের নিকট থেকে এর আগে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্ত পরিতোষ কুমার দাশের নিকট থেকে আরও অধিক পরিমান টাকা নিয়ে পরীক্ষায় কম নম্বর পেলেও তাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতার চাপের মুখে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা দুই জনকে সমান নম্বর করে দেন। এর একদিন পরই বেশি পরিমান টাকা দেয়ায় পরিতোষ কুমার দাশকে বিদ্যালয়ের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা এমএম ফজলুল হত প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়ে দেন। পরিতোষের নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে প্রহৃদ চন্দ্র হালদার টাকা ফেরত চাইলে বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী দেড় লাখ টাকা ফেরত দেন। বাকী টাকা চাইলে তাকে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে রাতারাতি পরীক্ষার খাতা ও রেজাল্ট শিট পরিবর্তন করে পরিতোষ কুমারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে নিয়োগ পাওয়া পরিতোষ দাশের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি ও এইচ এসসি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ এবং বিএ পাশ করেন বিশেষ বিবেচনায়। বর্তমানে নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার দাশ এর সাথে তার সেল ফোনে যোগাযোগ করলে বিধান পরিচয় দিয়ে তার এক ভাইপো বলেন, নিয়োগ দিয়েছেন সভাপতি, এর বাইরে তিনি আর কিছু বলতে চাননি। নিয়োগ পরীক্ষায় পরিচালনাকারী তালা বিদে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী রফিক জানান, ৫ জন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও প্রহৃদ চন্দ্র হালদারের রেজাল্ট ভালছিল। কিন্ত স্থানীয়দের চাপেরমুখে প্রার্থী পরিতোষ চন্দ্র দাশ ও প্রহৃদ চন্দ্র হালদারের রেজাল্ট সমান দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। তিনি জানান, পরে পরিচালনা কমিটি উভয়ের সমন্বয় করে পরিতোষ দাশকে প্রথম দেখিয়ে নিয়োগ দিয়েছে। গতকাল তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার এর চাপে ব্যাকডেট দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজ পত্রে সাক্ষর করতে হয়েছে এমন দাবী করে তালা বিদে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী মো: রফিক জানান, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে দুই প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের নগদ অর্থ নেয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন।
চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী জানান, চাকরী না হওয়ায় প্রার্থী প্রহৃদ চন্দ্র হালদারের তিন লাখ টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। আর টাকা পরে দেয়া হবে। তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি নিয়োগ বোর্ডে থাকলেও তার কাছ থেকে চুড়ান্ত কোন ফলাফলে সাক্ষর করা হয়নি। তবে নিয়োগ নিয়ে ঝামেলা আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম, দূনীতি হয়েছে বলে তিনি একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেয়ার