কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু ‘গুগল বাস’

google bus
সমাজের কথা ডেস্ক॥ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন (বিআইসিসি) কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছে বিশ্বব্যাপী আলোচিত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের শিক্ষামূলক উদ্যোগ ‘গুগল বাস বাংলাদেশ’। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড মেলার কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু এখন বাসটি।

কি রয়েছে এই বাসের ভিতর? এটা নিয়ে কৌতূহলের কমতি নেই দর্শনার্থীদের। তবে এবার সুযোগ মিলছে জানার। বাসে প্রবেশের জন্য জি-মেইল আইডি, নাম, ফোন ও ক্যাম্পাসের ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। একসঙ্গে ৩০ জন যাত্রী উঠতে পারছেন বাসটিতে। বাসের মধ্যে অবস্থানের সুযোগ থাকছে ১০ মিনিট।

বাসে উঠতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশিক রহমান বাংলানিউজকে বলেন, গুগল বাসের নাম অনেক শুনেছি। কিন্তু কোনোদিন এর ভিতরে ঢোকার সুযোগ হয়নি। গুগল বাসের ভেতরে আসলে কি আছে সেটা জানতেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছি। বিনা পয়সায় সুযোগ যখন পেয়েছি তখন এটি কাজে লাগাতে ক্ষতি কি?

শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও ধারণা দিতে গতবছরের ১২ নভেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুগল বাসের যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধন করেছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

গুগল বাসের মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার ও সাউন্ড সিস্টেম। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিভিন্ন দিক শিক্ষার্থীদের জানানো হবে। বিশেষ করে গুগলের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন বিনা খরচায়।

মেলায় শিক্ষার্থীদের বিনা খরচে গুগল বাসে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। গুগলের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে তরুণদের জানাতেই গুগল বাস পরিভ্রমণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর সুফল দেখা গেলো তৃতীয় দিনের মেলায়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাছাই করা হয়েছে ৫শ’টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ। স্নাতক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫ লাখ শিক্ষার্থীকে ধারণা দেওয়া হবে গুগল সার্চ, ক্রোম, ডকস্, ম্যাপস, ইউটিউব, গুগল প্লাসসহ অন্য ওয়েবসাইডের নানামুখী ব্যবহার সম্পর্কে। বিষয়গুলো গুগল বাসে ঢুকে জানতে পারছেন আগ্রহীরা।

মেলা প্রান্তে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় ব্যয় করেই গুগল বাসে ১০ মিনিট অবস্থানের সুযোগ মিলছে। এতেও মহাখুশি দর্শনার্থীরা।

একটি আইটি ফার্মে কর্মরত খালিদ হোসেন গুগল বাসে ঢোকার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন, গুগল বাসের ভেতর দু’টি ভিডিও দেখলাম। তারা কীভাবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাযর্ক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সেই বিষয়টিও দেখানো হলো। সবুজ শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশে ‘গুগল’ এর কার্যক্রম আরো প্রসারিত করা কীবাবে সম্ভব সেই আশার বাণীও শুনলাম।

গুগল-এর এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবো। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম সময়ে ঘরে বসেই নানা ‍সুবিধা পেতে পারি আমরা। বলেন খালিদ।

গুগল বাসটিতে সিট বা আসনগুলো এমনভাবে রাখা আছে যার প্রতিটি সিটের সামনেই থ্রিজি ইন্টারনেট সংযোগ ওয়ালা মনিটর বা পর্দা ও সাউন্ড সিন্টেম বসানো হয়েছে। এই বাসের ফলে অংশগ্রহণকারীরা আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা, শক্তি ও সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তবে এর সঙ্গে তারা গুগলের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ব্যবহারের কলাকৌশল জানারও সুযোগ পাবেন।

মেলা চলাকালীন দর্শনার্থীরা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গুগল বাসে ওঠার সুযোগ পাবেন।

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) যৌথভাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের আয়োজন করেছে।

বিশ্বের ২৫টি দেশ থেকে আসা ৮৫ জন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ১শ’ ২০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ১শ’টি সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণে বসেছে বিশ্ব প্রযুক্তির এ মিলন মেলা। আয়োজনের সহযোগিতায় রয়েছে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বেসিস)।

শেয়ার