যশোরে বাহিনী প্রধান ম্যানসেল ডাকাতির চেষ্টাকালে সহযোগীসহ আটক, অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার আসামি বাহিনী প্রধান মাহবুব আলম ম্যানসেল ডাকাতির চেষ্টাকালে সহযোগী মাসুদসহ আটক হয়েছে। রোববার গভীর রাতে সদর উপজেলার যশোর-খুলনা মহাসড়কের রামনগর ক্ষণিকা পিকনিক কর্নারের সামনে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বোমা, হাসুয়া, লোহার রড ও লাঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক দু’জনসহ মোট সাত জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে।
ম্যানসেল শহরের ষষ্ঠীতলার ফারহাদুজ্জামান আলমাসের ছেলে এবং মাসুদ চাঁচড়া রায়পাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে। পলাতক অপর আসামিরা হলো, শহরের শংকরপুর এলাকার মৃত কিনাই চৌধুরীর ছেলে হত্যা মামলার আসামি হবি ডাকাত, শংকরপুর এলাকার কালা বাচ্চু, বেজপাড়ার পেচো, মাসুদ ও সেলিম।
ম্যানসেলের নামে খুন, ডাকাতি, বোমাবাজিসহ ৮টি মামলা রয়েছে। অপর আটক মাসুদের নামে জেলা ছাত্রদল নেতা কবির হোসেন পলাশ হত্যা মামলা রয়েছে। ম্যানসেলও এ হত্যা মামলার আসামি। তাদের দু’জনকেই এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এসআই বিধান কুমার বিশ্বাস জানান, রোববার রাতে আইনশৃংখলা রক্ষায় বিশেষ অভিযানে ছিলেন। এসময় ম্যানসেল ও তার সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করছেন বলে খবর পান। তখন পুলিশ যশোর সদরের রামনগর ক্ষণিকা পিকনিক কর্নারের সামনে যায়। ম্যানসেল তার সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে পুলিশ তাদের আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়। কিন্তু বাহিনী প্রধান ম্যানসেল এবং তার সহযোগী মাসুদকে পুলিশ আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে চারটি বোমা, চারটি হাসুয়া, দু’টি লোহার রড এবং পাঁচটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করে। আটক দু’জনের স্বীকারোক্তিতে পলাতক আসামিদের নাম জানতে পারে পুলিশ।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ম্যানসেলের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্য হলো নজু, ডলার, বনি, শয়ন, সেলিম, জাহাঙ্গীরসহ আরও কয়েকজন। তারা এলাকায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছে। এছাড়া তারা মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় চলাফেরা করে। এতে স্থানীয় লোকজন আতংকের মধ্যে থাকে। সম্প্রতি রেলস্টেশন, চাঁচড়া রায়পাড়া, বড় বাজার এবং বিভিন্ন ব্যাংকসহ অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে জেলা ছাত্রদলের নেতা কবির হোসেন পলাশকে হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে ম্যানসেল ও মাসুদ।
এছাড়া হবি চৌধুরী একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার নামে খুন, ডাকাতি, অস্ত্র, বোমা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ডজন খানেক মামলা রয়েছে। অপর আসামি কালা বাচ্চু, পেচো, মাসুদ ও সেলিমদের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মামলা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনামুল হক জানান, ম্যানসেলের নেতৃত্বে পিকনিক কর্ণারের সামনে ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে দু’জনকে আটক করে। তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এব্যাপারে এসআই বিধান কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তবে ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫জনকে আসামি করা হয়েছে।

শেয়ার