এক যুগ পর নেতৃত্ব নির্বাচনে কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য॥ রাত পোহালেই যশোর আ’লীগের সম্মেলন

toron
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ রাত পোহালেই যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ এক যুগ পর এই সম্মেলনকে ঘিরে গোটা জেলায় সাজ সাজ রব পড়েছে। গোটা শহর এখন ব্যানার, তোরণ, ফেস্টুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত দুই শতাধিক তোরণ তৈরি করা হয়েছে। পদ প্রত্যাশী নেতারা দলীয় সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত ডিজিটাল প্যানা দিয়ে তৈরি করেছেন বিশাল বিশাল তোরণ। সেই সাথে ভবন জুড়ে বিশাল বিশাল আকৃতির ব্যানারে সম্মেলন সফল করার আহবান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সর্বশেষ ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে আলী রেজা রাজু সভাপতি ও শাহীন চাকলাদার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর দলের সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬টি পদ খালি রেখে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট যশোর জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। ৫৫ সদস্যের কমিটির ৪জন নেতা মারা গেছেন, ২জন পদত্যাগ করেন এবং ১জনকে বহিষ্কার করা হয়।
গত এক যুগ ধরে আলী রেজা রাজু ও শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বাধীন কমিটি রাজপথের আন্দোলনে সফল হয়েছেন বলে সমর্থকরা দাবি করেছেন। সরকার বিরোধী কিংবা অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সব সময় রাজপথে থেকেছেন এ কমিটি। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার রাজপথে জামায়াত বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় উজ্জীবিত হয় নেতাকর্মীরা। ফলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে যশোর শহরে দাঁড়াতেই পারেনি বিএনপি জামায়াত। শাহীন চাকলাদারের এ শক্তিশালী অবস্থানের কারণে নেতাকর্মীরা সবসময় ছিলো সক্রিয়। জেলার রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকায় বিশ দলীয় জোট রাজপথের পথের আন্দোলন থেকে সব সময় ঘরমুখো ছিল। এদিকে, একযুগ পর ১২ ফেব্রুয়ারি শহরের ঈদগাহ ময়দানে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনকে ঘিরে মূলত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েই লড়াই চলছে। তবে এক্ষেত্রে সভাপতি পদে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান সভাপতি আলী রেজা রাজু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার।
১২ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, সদস্য বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, ইসমাত আরা সাদেক, সুভাষ চন্দ্র বোস, একেএম এনামুল হক শামিম ও এসএম কামাল হোসেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে সম্মেলন পরিচালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক এমপি কাজী নাবিল আহম্মেদ, সহ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, বাঘারপাড়া উপজেলা সভাপতি এমপি রণজিৎ কুমার রায়।
অপরদিকে, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ভবনে ব্যানার ও তোরণ টাঙানো হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের নামে বিশাল বিশাল তোরণ ও ব্যানারে কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তোরণের নামকরণ করা হয়েছে ১৫ আগস্টে শহীদদের নামে ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাদের নামে। তোরণ, ব্যানারের নগরীতে পরিণত হয়েছে যশোর। সাজ সাজ রব পড়ে গেছে গোটা জেলায়। তবে একইসঙ্গে সম্মেলনকে ঘিরে নাশকতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে নাশকতার আশংকা প্রকাশ করে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি জামায়াত জোট আন্দোলনের নামে দেশব্যাপি নৈরাজ্য নাশকতা জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে। এসময় অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীরা কাউন্সিল অধিবেশনের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘœ ঘটানোর অপচেষ্টা করতে পারে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।

শেয়ার