এএপি ৬৭, বিজেপি ৩, কংগ্রেস ০ আম আদমির দিল্লি দখল, বিজেপি-কংগ্রেসের ভরাডুবি

Vote

সমাজের কথা ডেস্ক॥

দিল্লিতে নিরঙ্কুশ ও অবিস্মরণীয় জয়ের পথে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (এএপি)। ভারতের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ ভোট গণনার সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী ৭০ আসনের দিলি¬র বিধানসভার ৬৬টি আসনে জয়লাভ নিশ্চিত করেছে আম আদমি পার্টি। তিনটি আসনে জিতেছে বিজেপি। একটি আসনে ভোট গণনায় এগিয়ে আম আদমি পার্টিই।

অপরদিকে কোনো আসনেই জিততে পারেনি নেই মাত্র এক বছর আগেও দিল্লির ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।

ভোটের আগের জনমত জরিপের ফলাফলে বিজেপির থেকে খুব বেশি এগিয়ে ছিলো না আম আদমি পার্টি। তাদের ঠিক ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছিলো বিজেপি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ভোট গণনা শুরু হতেই পাল্টে যেতে থাকে হিসাব-নিকাশ। বেশিরভাগ আসনেই আম আদমি পার্টির প্রার্থীদের থেকে অনেক পিছিয়ে বিজেপির প্রার্থীরা।

দিল্লির মসনদ পেতে এবার চমক হিসেবে কিরণ বেদীকে নামিয়েও হালে পাল পায়নি বিজেপি। আম আদমিকে মোকাবেলায় মাঠে নেমেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্য, বিজেপির ১২০ জন লোকসভা সদস্য এবং সমমনা মৌলবাদী হিন্দু সংগঠন আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংস্থা) এর এক লাখ কর্মী নেমেছিলেন প্রচারণায়। ভারতীয় মিডিয়ারও প্রভাবশালী একটি অংশেরও আনুকূল্য পায় বিজেপি।

কিন্তু বিজেপির সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় একজন মাত্র ব্যক্তির ক্যারিশমায়। তার নাম আরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিজেপির সব কারিগরির সামনে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান তিনি। অথচ মাত্র এক বছরেরও কম সময় আগ যখন দিল্লির সরকার থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কেজরিওয়াল তখন সমালোচকরা ‘ভাগওয়া’ বা পলায়নপর’ হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করে তাকে। তবে দিল্লির সাধারণ ভোটাররা যে সমালোচকদের কথায় কান দেয়নি তা তো ভোটের ফলেই পরিষ্কার।

এবারের ভোটের সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি হলো কংগ্রেসের একটি আসনও না পাওয়া। অথচ মাত্র এক বছর আগেও দিল্লি ও কেন্দ্রের ক্ষমতায় ছিলো দলটি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোটারদের এই মুখ ফিরিয়ে নেয়া দলটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। এবারই প্রথমবারের মত দিল্লির বিধানসভায় একটি আসনও না পাওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ড গড়ার পথে কংগ্রেস।

এ পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটিতে। ইতোমধ্যেই দলের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে মিছিল করে জানিয়ে দিয়েছেন ‘রাহুল ভাগাও, প্রিয়াঙ্কা লে আও’। অর্থ পরিষ্কার রাহুলের নেতৃত্বে আর আস্থা নেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের, তারা চাইছেন প্রিয়াঙ্কাকে।

মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সকাল আটটায় ১৪টি কেন্দ্রে রক্ষিত ২০ হাজার ইলেক্ট্রিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) একযোগে শুরু হয় ভোট গণনা।

শেয়ার