যশোরে সাজ সাজ রব॥ নেতাদের স্মরণে মোড়ে মোড়ে তোরণ॥ আ’লীগের সম্মেলনে হরতাল-অবরোধে হত্যা এবং নৈরাজ্যে’র প্রতিবাদ জানাবে ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা

toron
নিজস্ব প্রতিবদেক॥ আর কয়েক দিন পরই যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এ উপলক্ষে যশোর শহরসহ গোটা জেলায় সাজ সাজ পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে সম্মেলনস্থল শহরের ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। এ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশারফুল ইসলাম এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহসহ দু’ডজন কেন্দ্রীয় তারকা নেতারা একসাথে উপস্থিত থাকার ইচ্ছাপোষণ করায় আনন্দে ভাসছেন নেতাকর্মীরা। এজন্য তাদের নামেসহ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে তোরণ নির্মাণ করা করেছে। একই সাথে কারা এই সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সম্মেলন থেকে বিএনপি জোটের চলমান সহিংসতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে ‘কাবাব বানানো’র প্রতিবাদ জানানো হবে।
দীর্ঘদিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সম্মেলনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই শহরের চায়ের দোকান থেকে অভিজাত রেস্তোরা, প্রাইমারি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, খেলার মাঠ থেকে বিনোদনের পার্ক সর্বত্রই দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা আলোচনা করছেন। এছাড়া জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যেও আসছে সম্মেলন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৩ সালে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। প্রায় এক যুগ পরে হতে যাওয়া এই সম্মেলনকে ঘিরে যশোর শহরকে তোরণ আর ব্যানারে একেবারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে। শহরটি যেন তোরণের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা নেতাদের নামে সম্মেলনের স্থান যশোর ঈদগাহ এলাকাসহ আসপাশে তোরণে তোরণে ছেয়ে গেছে। এছাড়াও শহরের চিত্রা মোড় থেতে চৌরাস্তা, চারখাম্বা থেকে রেলস্টেশন, চাঁচড়া চেক পোস্ট থেকে জজকোর্ট হয়ে দঁড়াটানা পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তির নামে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। তোরণ আর ব্যানারে শহরের আরবপুর, পালবাড়ি, শিক্ষা বোর্ড, মণিহারসহ বিভিন্ন এলাকা রীতিমতো ছেয়ে ফেলা হয়েছে। এসব ব্যানার আর তোরণের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির সম্মেলন উপলক্ষে যশোর আসা কেন্দ্রীয় নেতাদের আগাম অভিনন্দন জানানো হয়েছে। শুভকামনা জানানো হচ্ছে যশোরবাসীকেও।
জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি যশোর ঈদগাহ ময়দানের অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিএনপি জোটের হরতাল অবরোধের নামে চলামান সহিংসতার প্রতিবাদ জানানো হবে। একই সাথে সরকারের কাছে পেট্রোল বোমা মেরে নিরিহ মানুষকে পুড়িয়ে ‘কাবাব বানানো’র অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।

শেয়ার