পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ: সংগ্রাম প্রতিনিধি গ্রেপ্তার

petrol boma
সমাজের কথা ডেস্ক॥ রংপুরের মিঠাপুকুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র সংগ্রামের স্থানীয় প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মিঠাপুকুর উপজেলা প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের আগেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

রোববার হাফিজুর রহমানকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, “হাফিজুর ঘটনার চার ঘণ্টা আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। গভীর রাতে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের পর তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জলন্ত বাসের ছবি কয়েকজন সাংবাদিককে সরবরাহ করেন।”

ওইসব সাংবাদিকরাও পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সুপার জানান, হাফিজুর সোমবার রংপুরের বিচারিক হাকিম হাফিজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
“জবানবন্দীতে হাফিজুর স্বীকার করেন তিনি এক সময় জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। বাসে পেট্রোলবোমায় মারার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, জলন্ত বাসের ছবি তুলে তা বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছে সরবরাহের জন্য তাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে সবকিছইু স্বীকার করেন হাফিজুর।”

অবরোধের মধ্যে গত ১৩ জানুয়ারী গভীর রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন ফতেপুরে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক শিশু ও চার নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দগ্ধ হয় ৩০ জন।

খলিল স্পেশাল নামের বাসটি কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে পেট্রোলবোমা হামলার শিকার হয়।

এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে জামায়াত-শিবিরের বর্তমান ও সাবেক ১২০ নেতা-কর্মীর নামে সন্ত্রাস দমন ও জননিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিঠাপুকুর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

শেয়ার