টাকায় মেলে ‘মানব খেলনা’

khelna
সমাজের কথা ডেস্ক॥ উনবিংশ শতাব্দির মাঝামাঝিতে আইন করে দাসপ্রথা বন্ধ ঘোষণার পর আফ্রিকার মানুষগুলো হাফ ছেড়ে বেঁচেছিল। মাঝে পেরিয়ে গেছে প্রায় দেড় শতাব্দি। এই একবিংশ শতাব্দিতে এসে আবারও আফ্রিকার মানুষদের দাস বানানোর প্রবণতা দেখা গেছে পশ্চিমা ধনকুবেরদের মধ্যে। সম্প্রতি এক মার্কিন ধনকুবের তার ছেলে সাধ মেটাতে আফ্রিকা থেকে কিনে এনেছেন মানব ‘খেলনা’।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা অঙ্গরাজ্যের ধনী ব্যবসায়ী ওয়ালেস টার্নকুইস্ট তার ১৩ বছরের ছেলে স্কাইলারকে নিয়ে আফ্রিকায় শিকারে গিয়েছিলেন। শিকারের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় বসবাসরত স্থানীয়দের ‘মজার মানুষ’ বলে মনে হয় স্কাইলারের কাছে। খেলার জন্য সে তার বাবার কাছে এক স্থানীয় বাসিন্দাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আব্দার করে।

ওয়ালেস টার্নকুইস্ট বলেন, ‘আফ্রিকার লোকদের সুখী ও তাদের হাসিখুশি দেখে তার ছেলে পুলকিত হয়। প্রথমে সে তাদের একজনকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে জানাই, অপহরণ অবৈধ। সে এতো জোরাজুরি করছিলো যে শেষ পর্যন্ত আমি একজনকে কিনে নেই।’

মার্কিন এই ধনকুবের স্থানীয় যে বাসিন্দাকে কিনে নিয়েছেন তার নাম এজিকিল অ্যাকপু-ঙ্কু। দাস আইন ও মানব পাচার আইনে যাতে দোষী হতে না হয় সেজন্য এজিকেলের সঙ্গে চাকরির চুক্তি করেছেন টার্নকুইস্ট। বছরে এক হাজার ডলারের বিনিময়ে কেবল অবৈধ কাজ ছাড়া তাকে দিয়ে যা খুশি তাই করাতে পারবে স্কাইলার।

স্কাইলার জানায়, ‘তাকে (এজিকিল) সারাদিন এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম। তাকে মাকড়সা খেতেও বাধ্য করেছি। আমি যা বলি সে তাই করে। সে সবচেয়ে ভালো খেলনা।’

স্কাইলার কিন্তু এক আফ্রিকান ‘খেলনা’ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। ইতিমধ্যে সে তার বাবার কাছে আরেকটি মানব ‘খেলনা’ চেয়েছে। তবে তার বাবা এই আব্দার পূরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

টার্নকুইস্ট জানান, ‘আমি স্কাইকে নষ্ট করতে চাই না। যদি তাকে আমি আরেকজন আফ্রিকান কিনে দেই, সে তাহলে আরও চাইবে। আমার মনে হয় একজন আফ্রিকান মানুষের মালিক হওয়াই যথেষ্ট।’

শেয়ার