যশোর ও সাতক্ষীরায় পৃথক বন্দুকযুদ্ধ॥ পুলিশের কাছ থেকে পালানো জামায়াত সন্ত্রাসী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত॥ গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল ক্যাডার

bonduk juddho
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা ও কলারোয়া প্রতিনিধি॥ যশোরে পুলিশের কাছ থেকে পালানোর ১২ ঘন্টা পর সন্ত্রাসী জামায়াতকর্মী শহিদুল ইসলাম (৩৮) ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ও তার সহযোগি ছাত্রদল ক্যাডার আব্দুল মজিদ (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যশোর সদর উপজেলার রামনগর পিকনিক কর্ণার এলাকায় শহিদুল নিহত এবং সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঠাকুরবাড়ি এলাকায় মজিদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধে শহিদুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছে।
নিহত শহিদুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী সানার ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুল খালেকের ভাগ্নে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ আব্দুল মজিদ কলারোয়া উপজেলার তুলসীডাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার আব্দুস সাত্তার দফাদারের ছেলে। নিহত শহিদুল ইসলামের নামে সাতক্ষীরা ও কলারোয়া থানায় হত্যা, নাশকতাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। আর গুলিবিদ্ধ মজিদ ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার সাথে জড়িত ছিলেন। সেই হামলার ঘটনায় ২০১৪ সালে কলারোয়া থানায় মামলা হয়েছিলো। এ মামলায় শহিদুল এজাহারভুক্ত আসামি বলে নিশ্চিত করেছেন কলারোয়া থানার ওসি তদন্ত শফিকুর রহমান।
পুলিশ জানায়, বুধবার শহিদুল ও কলারোয়া উপজেলা যুবদল নেতা আব্দুল মজিদকে যশোরের শার্শার পুলিশ স্থানীয় কায়বা এলাকা থেকে আটক করে। বৃহস্পতিবার আদালতে নেয়ার সময় তারা যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের সদর উপজেলার নতুনহাট এলাকার পাবলিক কলেজের সামনে এলে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু এর ১২ ঘন্টা পরেই অর্থ্যাৎ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পুলিশের সাথে পৃথকস্থানে (যশোর ও সাতক্ষীরায়) ‘বন্দুকযুদ্ধে’ লিপ্ত হয় তারা। এতে শহিদুল যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। আর আব্দুল মজিদ কলারোয়ার ঠাকুরবাড়ি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিৎিসাধীন রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, শহিদুল ও মজিদ পালিয়ে যাবার পর তিন পুলিশকে ক্লোজড করা হয় এবং পালাতক আসামিদের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা। একই সাথে পালিয়ে যাওয়া আসামি গ্রেফতার করতে পুলিশ সড়ক-মহাসড়কে তল্লাশিসহ বিভিন্নস্থানে অভিযানে নামে। পুলিশের একটি টিম বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে (রাত ২ টার দিকে) সদর উপজেলার রামনগর পিকনিক কর্ণার এলাকায় অবস্থানকালে খুলনামুখী একটি মাইক্রোবাস থামতে বলে। কিন্তু গাড়িটি না থেমে পুলিশের উপর কয়েকটি বোমা ও গুলি ছুঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষায় ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে সন্ত্রাসী শহিদুল গুলিবিদ্ধ হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ শহিদুলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
এসপি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৪টি বোমা উদ্ধার করেছে। এসময় সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল আতিয়ার রহমান, শহিদুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন।
এব্যাপারে কোতোয়ালি থানার এসআই বিধান কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে পুলিশের উপর হামলা এবং শহিদুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন।
এদিকে, সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার ওসি তদন্ত শফিকুর রহমান বলেন, কলারোয়া উপজেলার কেরাগাছী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মজিদ গুলিবিদ্দ হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি শার্টারগান ও পাঁচ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শেয়ার