বিধ্বস্ত বিমানেও জয়স্টিক ধরেছিলেন পাইলট

Emergency
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তাইওয়ানে ৫৮ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত ট্রান্স এশিয়ার বিমানের পাইলটের লাশ ককপিটে জয়স্টিক ধরা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
বিধ্বস্ত হওয়ার আগে যাত্রীদের প্রাণরক্ষায় পাইলটের এই প্রচেষ্টা তাকে বীরের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে বলে শুক্রবার তাইওয়ানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিবেদিত প্রাণ এই পাইলটকে ৪২ বছর বয়সী লিয়াও চিয়েন-সাং বলে শনাক্ত করেছে ট্রান্স এশিয়া।
নদীতে গোত্তা খেয়ে পড়ে যাওয়ার আগে বিমানটিকে তাইপের অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর মাঝ দিয়ে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ প্রচেষ্টার জন্য তাইপের মেয়র পাইলট চিয়েন-সাং’র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
বুধবার তাইপের একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি প্রায় নিয়ন্ত্রণ হারা অবস্থায় নাক উঁচু করে তাইপের ভবনগুলোর গা বাঁচিয়ে উড়ে গিয়ে একটি ওভারপাসের ওপর গিয়ে কাত হয়ে যায়।
বিমানটির একপাশের পাখা ওভারপাসে ধাক্কা খেয়ে উল্টে একটি অগভীর নদীতে গিয়ে পড়ে।
বিধ্বস্ত প্রায় নতুন ওই বিমানটির ককপিট থেকে পাইলট ও কো-পাইলটের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিমানের জয়স্টিক ধরা অবস্থাই পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। তাকে ওই অবস্থায়ই পাওয়া গেছে। পাইলট ও কো-পাইলটের পা ভেঙে গিয়েছিল।
তদন্তকারী আইনজীবী বলেছেন, “শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা বিমানটি রক্ষার চেষ্টা করেছেন।”
তাইপের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, শহরের কোনো ভবনের উপর বিমানটি বিধ্বস্ত হলে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি হত।
এ পর্যন্ত বিমানটির ৩১ আরোহীর লাশ পাওয়া গেছে। ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। ১২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

শেয়ার