বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ॥ নাসির চৌধুরীর একমাত্র গোলে ধরাশায়ী থাইল্যান্ড

fdeile
সমাজের কথা ডেস্ক॥
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক বাংলাদেশ আর থাইল্যান্ড। এ ম্যাচে ১-০ গোলে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ বিরতির পরে লিড নিয়ে আবারো মাঠে নামে। প্রথমার্ধে নাসির চৌধুরির গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় মামুনুল বাহিনী।

ম্যাচের শুরু থেকেই থাইল্যান্ডকে চেপে ধরে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণ করে থাইদের বিপর্যস্ত করে তোলেন মামুনুল-নাসিররা। ৪০ মিনিটে ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিনের গোলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সেই সাথে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের স্বপ্নের ফাইনালে উঠে গেল লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। তবে ৫ মিনেটের মাথায় মামুনুল ইসলামের বাড়িয়ে দেয়া বলে সোহেল রানার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

এরপর আবারো বল পেয়ে যান অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার দূরপাল্লার শটটি গোলপোস্ট ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। ১২ মিনিটে একটি মোক্ষম সুযোগ ছিল বাংলার দামালদের জন্য। কর্নার কিক থেকে জাহিদ হোসেন এমিলির হেড আবারো বার ঘেষে চলে যায় মাঠের বাইরে।

১৪ মিনিটে খানিকটা গুছিয়ে প্রথম সংঘবদ্ধ আক্রমণে যায় থাইল্যান্ড। তবে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। এরপর বেশ কিছু আক্রমণ করলেও গোলের মুখ দেখেনি থাইল্যান্ড।

২০ মিনিটে একটি সুবর্ন সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ। উইঙ্গার জাহিদ হোসেনের বাড়িয়ে দেওয়া বলে পা ছোঁয়ালেই গোল পেতে পারত এমিলি ও হেমন্ত। কিন্তু দু’ খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিয়ে বলটি চলে যায় নিয়ন্ত্রনের বাইরে।

এরপর যেন আক্রমণের বান বয়ে যায় থাই শিবিরে। একে একে এমিলি, সোহেল রানা আর হেমন্তের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে যায় থাইরা। ২৬ মিনিটে সোহেল রানার লম্বা থ্রো থেকে এমিলির হেড কোনো মতে শেষ রক্ষা করে থাইল্যান্ডের গোলরক্ষক সমপর্ন।

৩৯ মিনিটে কর্নার থেকে আসে সেই কাঙ্খিত গোল। মামুনুলের কর্নার থেকে উড়ন্ত বলে খানিকটা লাফিয়ে উঠে পা ছুঁইয়ে গোল করেন নাসির উদ্দিন। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে বাংলাদেশ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হাওয়া বদলের ইংগিত ছিল। থাইল্যান্ডের আক্রমণগুলোও বেশ গোছানো ছিল।

এর মধ্যেই ৫৫ মিনিটে মামুনুলের দূরাপাল্লার শটটি থাইদের বার ছুঁয়ে যায়। ৬০ মিনিটে থাইদের বদলি খেলোয়াড় চাওয়াতের ফ্রি কিকে মাথা ছুঁইয়ে দেন দলীয় অধিনায়ক পার্মপাক পাকর্ন। তবে, বেশ দক্ষতার সাথে বলটি তালুবন্দী করেন গোলরক্ষক শহিদুল আলম। ৬৪ মিনিটে আরেকটি বিপদজনক শট করেন দলীয় অধিনায়ক পার্মপাক পাকর্ন। বলটি সোজা গিয়ে বাংলাদেশের বারে লাগে।

৭৬ মিনিটে হেমন্তের দূর পাল্লার শট গোল হতে গিয়েও থাইল্যান্ডের বার ছুঁয়ে যায়। এরপর কোচ ক্রুইফের ইশারায় শতভাগ রক্ষণাত্বক ভাবে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময় শেষে ১-০ গোলের জয় নিয়েই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপের দল বাংলাদেশ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ চারে নাম লেখায় (২ খেলায় ১ জয় ও ১ হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে)। সিলেটে প্রথম ম্যাচে তারা ০-১ গোলে ‘মালয় টাইগার্স’ খ্যাত মালয়েশিয়ার কাছে হারলেও ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে।

আর এ জয়ের ফলে ৮ ফেব্রুয়ারি সেই মালয়েশিয়ার বিপক্ষেই ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

শেয়ার