শার্শায় আর্সেনিক দূষিত গ্রাম সামটা॥ আক্রান্তের সংখ্যা ৬ শতাধিক

arsenic
এমএ রহিম, বেনাপোল॥ বাংলাদেশের আর্সেনিক দূষিত গ্রামের নাম শার্শার সামটা। উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬ শতাধিক। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে একই পরিবারের ৪/৫ জনসহ ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। জাপানী শিশুদের টিফিনের টাকায় আক্রান্ত এলাকায় গ্রহন করা হয় নিরাপদ পানির প্রকল্প। তবে গত ৭ বছর আগে আর্সেনিক নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দিশেহারা হয়ে পড়েছে আক্রান্তরা।
উল্লেখ্য, ৯০ দশকে যশোরের শার্শা উপজেলার সামটা বাগআঁচড়া, কায়বা রুদ্রপুর, গোগা ও ভবানীপুর এলাকায় পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক দেখা দেয়। এ সময়ে ৩শ’ ৬৩জন রোগী সনাক্ত করা হয়। গত ১০বছরের ব্যবধানে তাদের মধ্যে মারা যায় ৩৫জন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬শ’তে। পরবর্তীতে আরো মারা যায় ১৩ নারী পুরুষ ও শিশু। ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সচেতনতা বৃদ্ধি,আর্সেনিক মুক্ত পানি ও রোগিদের ঔষধ ব্যবস্থায় এলজিডি জাইকা সহ বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে আসে। তবে ২০০৮ সালের পর সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে আবারও বাড়তে থাকে আর্সেনিক আক্রান্তের সংখ্যা। সর্বশেষ গত মাসে আর্সেনিক আক্রান্তে মারা যায় সামটা গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী রেনুকা খাতুন। এখবরে জাইকার একটি প্রতিনিধিদল গত ২৪ ডিসেম্বর শার্শা ও চৌগাছা এলাকা পরিদর্শন করেছে।
স্বামী শওকত আলি, শশুর দাউদ আলী, শাশুড়ি মেহেরুন নেছা ও খোদেজা বেগমকে হারিয়েছেন শুকজান বিবি।তার পরিবারের চারজন আর্সেনিকের বিষে পরপারে চলে গেছেন। শুকজান বিবির মতো স্বামী সন্তান হারিয়েছেন ওই গ্রামের ২৩জন নারী। মোহর আলী, বজলুর রহমান, রেজাউল ইসলাম, দমশের আলী, খলিলুর রহমান ও শাহাজানের অবস্থাও সংকটাপন্ন। ওরা সবাই আর্সেনিকের প্রভাবে লিভার ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্ষত, শরীরের বিভিন্ন ধরনের ঘাঁ সৃষ্ট ক্যান্সার, ম্যানালোসিস ও ক্যাবাটোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন।এরা বলেন আমরা ‘বাচঁতি চাই’। মরতে চাইনা-আমাদের কেউ এখন আর ওষুদের (ঔষধ) দেয় না। ওষুদের অভাবে আমাদের মরা ছাড়া আর কোন গতি নেই। ২০বছর ধরে আর্সেনিক আক্রান্ত সামটা গ্রামের বজলুর রহমান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন আমরা মরনের দারপ্রান্তে। সরকার ও কোন সংস্থার সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছি না।
এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কে মেটিগেশন এর কান্ট্রি ম্যানেজার-মিস সাচী টুসিমা বলেন,আক্রান্তস্থল পরিদর্শনে এসে প্লান্টগুলো বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখে খারাপ লাগছে। এগুলো সংস্কার করতে চান তারা। একই কথা বলেন আর্সেনিক মেটিগেশন নেটওয়ার্কের যশোর এরিয়া ম্যানেজার-তরুন ক্রান্তি হোর। নতুন করে কাজ শুরুর ্আশ্বাস দেন আর্সেনিক নেটওয়ার্কে মেটিগেশন এর সহকারি কান্ট্রি ম্যানেজার শামীম উদ্দিন ও এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কে মেটিগেশন প্রকল্প ব্যবস্থাপক-কাজুয়িকী কাওয়াহারা ।
স্বামী শ্বশুর ও শাশুড়িসহ একই পরিবারের ৪জন হারানো শুকজান বিবি ও আলেয়া খাতুন বলেন- তারা আজ পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে নিঃস্ব। তারাও মৃত্যুপথযাত্রী। তারা এভাবে কষ্টে মরতে চাননা ঔষধ ও খাদ্য চান তারা।
আর্সেনিক মেটিগেশন সংস্থার কমুনিটি ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজার মঞ্জুয়ারা পারভীন বলেন, আমাদের কার্যক্রম ওই গ্রাম থেকে গুটিয়ে নিলেও যশোর অফিসে মাসে একবার আর্সেনিকে মারাতœকভাবে আক্রান্ত রোগিদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ‘নিপসমের’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শেখ আখতার আহমদ আসেন। চিকিৎসা খরচের শতকরা ১০ভাগ টাকা দেওয়ার শর্তে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসারত অবস্থায় ওই গ্রামে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আর্সেনিক মেটিগেশন নেটওয়ার্কের যশোর এরিয়া ম্যানেজার-তরুন ক্রান্তি হোর বলেন, শার্শা ও চৌগাছায় আর্সেনিক আক্রান্ত ১হাজার। শুধু শার্শায় ৬শতাধিক। গত বিশ বছরে মৃত্যু হয়েছে প্রায় অর্ধশত মানুষের

শেয়ার