যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল॥ নেই বার্ন ইউনিট, দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয় সার্জারি ওয়ার্ডে

Jessore hospital
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বার্ন ইউনিট নেই। নেই অগ্নিদগ্ধ মানুষের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও। তবে প্রাথমিকভাবে ভর্তি হওয়া দগ্ধ রোগীদের সার্জারি চিকিৎসক দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেবা দিচ্ছেন। ফলে চলমান অবরোধ-হরতালে সারাদেশের মতো যশোরাঞ্চলে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হওয়া মানুষের দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পুলিশ, হাসপাতাল ও বিআরটিএ সূত্র মতে, যশোর জেলায় এ পর্যন্ত ৭টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা। ভাংচুর করা হয়েছে আরও দুটি গাড়ি। এসময় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন মাগুরার বাসিন্দা ট্রাক চালক মুরাদ। কমবেশি আহত হয়েছেন ২/৩ জন। কিন্তু যশোর হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় দগ্ধ মুরাদকে পরদিনই ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয় এবং শেষপর্যন্ত তিনি মারা যান।
যশোর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহা এ প্রতিবেদককে বলেন, তাদের হাসপাতালে বার্ন ইউনিট নেই এবং সেখানে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ নেই। সার্জারি ওয়ার্ডেই অগ্নিদগ্ধ রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। এক্ষেত্রে সার্জারি ডাক্তার আবদুর রহিম মোড়ল, এনকে আলম ও অজয় কুমার চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তিনি আরও বলেন, সাধারণত রোগীর শরীরে ২০ ভাগ পুড়ে গেলে এবং এবং রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে তারা সেখানে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এর বাইরে তারা ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। এবিষয়ে চিকিৎসক অজয় কুমার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের এখানে ওয়ার্ড, যন্ত্রপাতিসহ রোগীর পরিস্থিতি বিবেচনায় যে সব সাপোর্ট দেয়ার প্রয়োজন তা না থাকায় দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। এবিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলার কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বার্ন ইউনিট নেই। তবে হাসপাতালে যে ডাক্তাররা আছেন তারাই প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় বাড়তি কোন পদক্ষেপ নেই এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তেমন কোন নির্দেশনাও নেই।

শেয়ার