মিয়ানমারের যোদ্ধা জাতি

NAGA
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দক্ষিণ এশিয়াভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার অন্যতম। দেশটির সঙ্গে ভারতের সীমান্ত যোগাযোগ নেই। কিন্তু এই দুই দেশেরেই সীমান্তবর্তী আদিবাসীগোষ্ঠির মধ্যে রয়েছে বেশ মিল। মিয়ানমারের পাহাড়ি আদিবাসী গোষ্ঠির মধ্যে প্রধান হলো নাগা গোষ্ঠি। ভারতেও নাগা আদিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু ভারতের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে মাওবাদী আন্দোলন জোরদার থাকার কারণে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে প্রায়ই সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পরতে হয় আদিবাসীদের। কিন্তু মিয়ানমারে অবশ্য অবস্থা কিছুটা ভিন্ন।
ঘঅএঅ-২মিয়ানমারে নাগা আদিবাসীদের যোদ্ধাজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যোদ্ধা জাতি বলার অন্যতম কারণ হলো, নাগারা তাদের বাড়িতে শত্রুর কেটে ফেলা মাথা স্বযতেœ সাজিয়ে রাখে। নাগাদের সামাজিক জীবন একটা সময় অনেক যুদ্ধ এবং সংঘাতময় ছিল কিন্তু আধুনিক সময়ে এসে নাগাদের ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে যেতে হয়েছে। বর্তমানে নাগারা জীবিকার জন্য মাছ ধরে। মূলত তারা জাল দিয়ে মাছ ধরলেও প্রায়শ বিকল্প হিসেবে মাছ ধরতে বিষও ব্যবহার করে তারা। কিন্তু অতিসম্প্রতি তারা ঘরে বানানো বোমা দিয়ে মাছ ধরে এবং নিজেদের দাত দিয়ে সেই মাছ সংগ্রহ করে।
ঋওখখঊজমিয়ানমারের সাগাইং বিভাগে প্রায় এক লাখ বিশ হাজার নাগার বসবাস। সেখানে মূলত তারা কৃষিকাজ ও শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। শিকারী নাগাদের গ্রামে গেলেই অবশ্য তাদের শিকারের নমুনা পাওয়া যায়। প্রতিটি শিকারী পরিবার তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী শিকার করা প্রাণীর মাথা তাদের দরজার সামনে ঝুলিয়ে রাখে। নাগাদের পোশাক পরিচ্ছদে আগে ধারাবাহিকতা থাকলেও এখন অবশ্য তার কিছুই অবশিষ্ট নেই। বেশিরভাগ নাগা পুরুষই আধুনিক মানুষদের মতো পোশাক পরে এবং নারীরাও গতানুগতিক পোশাক পরিধান করে।
ঙচওটগনাগাদের চাষকৃত ফসলের মধ্যে অন্যতম হলো আফিম। দীর্ঘদিন ধরেই তারা আফিম উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আফিমের বেশ চাহিদা (অবৈধ) থাকায় নাগাদের মধ্যে বংশ পরম্পরায় পপি চাষের প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। আফিম বিক্রি করেই মূলত তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কিছুটা হলেও মেটে। লক্ষ্যনীয় যে, নাগা নারীরা কেউই আফিম সেবন করে না। কিন্তু প্রত্যেক পুরুষ নাগা নিয়মিত আফিম সেবন করেন।

শেয়ার