নভোথিয়েটার দুর্নীতি মামলা থেকে শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি

Hasina
সমাজের কথা ডেস্ক॥
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে করা নভোথিয়েটার দুর্নীতির মামলা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
১৩ বছর আগের এই মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে অব্যাহতি পেয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ এইচ এস কে সাদেক, বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরও। এর মধ্যে শাহ কিবরিয়া ও এ এইচ এস কে সাদেক মারা গেছেন।
একই ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মনজুর মোরশেদ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।
ঢাকা জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইমরুল কায়েস ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
এই তিন মামলার অন্য আসামি সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূরউদ্দিন, সাবেক সচিব মারুফ মোর্শেদ, গণপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মুকিতুর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইস্কান্দার হায়াৎ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনহরুরুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুল হক খানও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
২০০২ সালের ২৭ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আগের মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট একনেক সদস্যদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এই তিনটি মামলা করেছিল তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো।
ব্যুরো বিলুপ্ত হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হলে মামলাগুলো কমিশনে হস্তান্তর হয়।
আদালতের পেশকার ইফতেখার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনটি মামলার একটিতে ৭ জন, একটিতে ৮ জন ও আরেকটিতে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের (একনেক) তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা তিনটি হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো- প্রকল্পের পরামর্শকের ব্যয় বৃদ্ধি, ভবন নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি ও কমকর্তা-কর্মচারীদের ব্যয় বৃদ্ধি।
২০০৫ সালের ২৪ অগাস্ট বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের কমিশন এই মামলাটিতে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তখন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে দুটি রিট আবেদন করেন।

২০১০ সালের ৪ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্ট। আদালত বলে, মামলা তিনটি অসৎ উদ্দেশ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে (হাসিনা) হেয় প্রতিপন্ন করতে দায়ের করা হয়েছিল।

এখন মামলা থেকে শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি দিল বিচারিক আদালত।

আওয়ামী লীগের অভিযোগ, শেখ হাসিনাকে ‘হয়রানি’র উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

অন্যদিকে দুদকের বর্তমান ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপি বলছে, সংস্থাটি আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘দায়মুক্তি’ দিচ্ছে।

শেয়ার