চোখের জলে চিরবিদায় আগুনে অঙ্গার বাবা মেয়ের

janaja
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে অঙ্গার বাবা মেয়ের অন্তিম বিদায় দিতে এসে চোখের জলে ভেসেছেন স্বজন, বন্ধু প্রতিবেশি। তবুও নেভেনি ক্ষোভের আগুন। মানুষ রূপী যে নরপশুরা জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তাদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন যশোরবাসী। একই সাথে হত্যাকান্ডের শিকার যশোরের বিশিষ্ট ঠিকাদার জাসদ নেতা নুরুজ্জামান পপলু ও তার মেয়ে মাইশা নাহিয়ানের আত্মার শান্তি কামনায় সৃষ্টিকর্তার কাছে হাত তুলেছেন সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। বুধবার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানের জনসমুদ্রে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শোকের কারবালায় পরিণত হয় ঈদগাহ। স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশি থেকে শুরু করে অচেনা অজানা মানুষও দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন বাবা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে। সর্বস্তরের মানুষ ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে হত্যার রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
বেলা ১২টার দিকে যশোর শহরের ঘোপ কবরস্থানে বেদনা বিধূর ও শোকাবহ পরিবেশে নুরুজ্জামান পপলু ও একমাত্র মেয়ে মাইশার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বাবা ও বোনকে চির বিদায় দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আসিফ ইমতিয়াজ মাথিন। নিহত মাইশার মা মাহফুজা বেগম মিতা শোকে বিহ্বল। মেয়ের শোবার ঘরে নিজেই আজ শয্যাশায়ী। সন্তান ও স্বামীকে নিজের চোখের সামনে জীবন্ত পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ার ঘটনা তাকে তাড়া করে ফিরছে। ক্ষণে ক্ষণে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। তাকে সান্ত¡না দেয়ার ভাষা নেই কারো। তবুও শোকাতুর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে স্বজন, প্রতিবেশিরা। শয্যাশায়ী মাহফুজা বেগম সান্ত¡না দিতে আসা স্বজন প্রতিবেশিদের কাছে বিলাপ করছেন। স্বামী সন্তানের স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি। বুধবার ছেলে ও নাতনির লাশ শেষবারের মত দেখার পর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। বাবা মেয়ের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। ব্যথিত বন্ধু প্রতিবেশিসহ প্রতিটি বিবেকবান মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছেন ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার।
মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রোল বোমা হামলায় সাতজন বাসযাত্রী নিহত হন। এই লাশের মিছিলে ছিলেন যশোরের ঠিকাদার নুরুজ্জামান পপলু ও তার মেয়ে মাইশা নাহিয়ান। বেঁচে যান স্ত্রী মাহফুজা বেগম মিতা। বাবা মেয়ের মৃত্যুর সংবাদে সারাদেশের মত যশোরবাসী শিউরে ওঠে। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই মানুষের। মঙ্গলবার রাতে তাদের দুইজনের লাশ কার্গো বিমানে করে বাড়িতে আনা হয়। চার সদস্যের পরিবারের দুইজনকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল স্বজনদের সমবেদনা জানাতে মঙ্গলবার থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন ঘোপের বাড়িতে। অসংখ্য মানুষের পদচারণার পরও বাড়িটিতে যেন কবরের নিরবতা। এই নিরবতা ভেঙ্গে দিচ্ছে স্বজনের কান্না আর আহাজারি। এই কান্নার যেন শেষ নেই। সারাটা জীবন অবিরত কান্নাই যেন সঙ্গী হলো মাহফুজা বেগম মিতার জীবনে। ছেলে আসিফ ইমতিয়াজ মাথিনকেও দুঃসহ বেদনা বুকে ধারণ করে বাকীটা জীবন পার করতে হবে। এমন করুণ পরিণতি যেন আর কারো জীবনে না আসে সেই অভিব্যক্তি পপলু, মাইশার স্বজনদের।

শেয়ার