সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়া॥ টেলিফোনে নাশকতার নির্দেশদাতা খালেদাকে গ্রেপ্তারের দাবি

protikria
শ্রাবণ সরকার॥
বিএনপি জোটের অবরোধের মেয়াদ বৃদ্ধির সাথে সাথে সারা দেশের মতো যশোরেও সহিংসতা বাড়ছে। প্রতিদিন জেলার কোথাও না কোথাও পেট্রোল বোমায় নিরীহ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হচ্ছেন। সাথে সাথে সারা দেশের মতো যশোরের সচেতন মানুষ চলমান সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন, শিশুবন্ধনসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করছে। অনেকে মনে করছেন সরাসরি জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি হারুণ-অর-রশিদ বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিএনপির জোট যে কর্মকান্ড করছে সেটা কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন নয়। এটা সরাসরি সন্ত্রাস। তাই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমনের জন্য সরকারকে কঠোর হতেই হবে। রিমান্ডে থাকা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভির বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে যে সহিংসতা হচ্ছে এর সবই খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের নির্দেশে হচ্ছে। যাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও সম্মতি রয়েছে। তাই এই সহিংসতা বন্ধ করতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই আরও কঠোর এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একই কথা বলেছেন জাসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিএনপির চলমান অবরোধ আর পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করার ঘটনা একই সাথে ঘটছে। তাই ধরেই নেওয়া যায় তারা মানুষ পুড়িয়ে মারতেই এই অবরোধের ডাক দিয়েছে। যা দিন দিন বাড়ছে। এদেশের জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকার জনগণকে সেই নিরাপত্তা দিতে বর্তমানে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারকে প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পরামর্শ দেন তিনি।
চলমান সহিংস রাজনীতি নিয়ে গতকাল রাতে কথা হয় অটোরিকসা চালক রূপদিয়ার মঙ্গল দাসের ছেলে মিলন দাসের সাথে। তিনি জানান, যে কোন সময়ের চেয়ে তারা বর্তমানে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। আয় কমার সাথে সাথে জীবনের নিরাপত্তাও কমে গেছে। সব সময় একটা আতঙ্ক কাজ করে। সেই আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে। এটা কোনভাবেই চলতে পারে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতির একটা সমাধানে আসার জন্য তিনি রাজনীতিকদের প্রতি দাবি জানান। সব কিছুর আগে চলমান অবরোধ আর হরতাল প্রত্যাহারের দাবি জানান এই অটোরিকসা চালক। তার সুরেই কথা বলেন আরেক অটোরিকসা চালক চাঁচড়া রায়পাড়ার শাহাদত হোসেনের ছেলে ইউনুস আলী। তিনি বলেন, প্রতিদিন যেভাবে মানুষ মারা হচ্ছে সেটা জঘন্য অপরাধ। রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের যুদ্ধ চলছে। তারা সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে হরতাল অবরোধের নামে নাশকতা ছড়াচ্ছে। অবশ্যই এর সমাধান হওয়া দরকার। আর বর্তমান সরকার আরো কঠোর হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
গতকাল রাতে আরো কথা হয় শহরের চিত্রা মোড়ের চায়ের দোকানদার মানিক শেখ, চটপটি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম, ঝিকরগাছা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী হারুণ-অর-রশিদ, একই গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী শাহীন। তারা সবাই বর্তমান সহিংস রাজনীতির কারণে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা বর্ণনা করে এর দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। শাহীন বলেন, বর্তমানে আমরা জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করছি। অসুস্থ পিতা আ্ব্দুল গাফফারকে চিকৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। আজ রাতে (গতকাল) অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় যাবো। এভাবে একটা গণতান্ত্রিক সমাজ চলতে পারে না। অবশ্যই আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।

শেয়ার