যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ॥ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে জিডি ও কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ

mamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় জিডি করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণসাহা। একই সাথে অভিযোগের বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাসান আল মামুন।
সোমবার কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করা হয়; গত ১৫ জানুয়ারি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ ইয়াকুব আলী মোল্লা অবসরে যাওয়ায় খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ অনীল চন্দ্র দত্তের নির্দেশে ডাঃ ইয়াকুব আলী মোল্লার সকল দায়িত্বভার বুঝে নেন সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা। সেই থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মন্ত্রণালয় থেকে তত্ত্বাবধায়ক বা ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক বিষয়ে কোন দাপ্তরিক নির্দেশনা না আসলেও একটি চিঠি নিয়ে হাজির হন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক হাসান আল মামুন। শুধু তাই নয়; গত ১ ফেব্রুয়ারি সকালে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে প্রবেশ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাসান আল মামুন কিছু অপরিচিত লোক নিয়ে চেয়ার দখল করেন। এ সময় নেমপ্লেট ছিঁড়ে ফেলেন এবং টেবিলে রাখা ফাইলপত্র তছনছ করেন। তার কাছে শ্যামল কৃষ্ণ সাহা ব্যাখ্যা চাইলে একটি আর্টিকেল ফর্টি সেভেন এর কপি বা কাগজ দেখান ডাঃ মামুন। জিডিতে বলা হয়, কাগজে যে স্মারক নং ব্যবহার করা হয়েছে তাহা সঠিক নয় এবং দপ্তরের ইস্যুকৃত স্মারকের সাথে কোন মিল নেই। এ বিষয়টি অবহিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে, সদ্য চাকরি ফিরে পাওয়া সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ হাসান আল মামুন আদেশপত্র অনুযায়ী বলেন, ২০০৯ সালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের পর বিভাগীয় মামলা হয়। মামলা থেকে অব্যহতি পাওয়ার পর আদালত মন্ত্রণালয়কে চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় চাকরিতে বহালের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশনা পাওয়ার পর গত বছর ২০ নভেম্বর হাসপাতালে যোগদান করতে যাই। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ ইয়াকুব আলী মোল্লা ভারতে চিকিৎসাধীন থাকায় এবং কিছু কর্মকর্তার কারণে যোগদান করতে পারেননি। তিনি ভারত থেকে এসে অবসরে চলে যাওয়ায় বর্তমানে তত্ত্বাবধায়কের পদ শূন্য থাকায় নিয়মনীতি অনুসরণ করে দায়িত্বভার গ্রহণ করি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা বলেন, রোববার অফিসে এসে দেখি ডাঃ হাসান আল মামুন তত্ত্বাবধায়কের চেয়ারে বসে আছেন তার সামনে কিছু বহিরাগত লোক চেয়ারে বসে আছেন। তখন আমি অন্যান্য চিকিৎসককে ডেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ না আসা পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ না করার জন্য বলি। এ সময় তিনি সকলের সামনে ফাইল তচনছ করেন। যেটা বে-আইনি ও অযৌক্তিক।

শেয়ার