যশোরে পপলুর বাড়িতে শোকের মাতম॥ ‘ভাই আমার ফুলের মত বোন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে’

maisha2
প্রতীক চৌধুরী॥
‘ভাই আমার ফুলের মত বোন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি ওকে চিনতে পারি নি। ওকে আমি কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। ও আমাকে ছেড়ে চলে গেল। কক্সবাজারে গিয়ে কত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলেছে। আর কোন দিন ওকে পাব না। আমার বাবাকে কত লোক ভালোবাসে। তাকে কত লোক দেখতে এসেছে। আর কোন দিন তারা ফিরবে না।’ মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রোল বোমা হামলায় পুড়ে নিহত বাবা ও বোনের লাশ সামনে করে এমন কান্নায় ভেঙে পড়েন যশোরের নুরুজ্জামান পপলুর ছেলে আসিফ ইমতিয়াজ। নিহত পপলুর স্ত্রীও সন্তান-স্বামী হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। জানালা ভেঙে নিজে বের হতে পারলেও চোখের সামনে স্বামী ও মেয়ের মৃত্যু তাকে আরও বেশি পীড়া দিচ্ছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসায় লাশ এসে পৌঁছায়। এরপর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
মঙ্গলবার রাত সাতটায় কার্গো বিমানে করে নুরুজ্জামান পপলু ও তার মেয়ে মাইশা তাসনিমের লাশ যশোর বিমান বন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় আনা হয়। তাদের দু’জনের লাশ দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ভিড় করে। সকালে তারা দুজন নিহতের সংবাদে শোকের মাতম শুরু হয়। সারাদিন স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশিরা লাশের অপেক্ষায় ছিলেন। রাতে লাশ এসে পৌঁছালে এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একনজর লাশ দেখতে উৎসুক জনতা নোংরা রাজনীতিকে ধিক্কার জানাতে ভোলেনি। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে যারা রাজনীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্বজন ও প্রতিবেশি ও বন্ধুরা।
নিহতের স্বজন আহসান কবির নিপু বলেন, বুধবার বেলা ১১টায় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাদের ঘোপ কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রোল বোমা হামলায় সাতজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এদের মধ্যে নুরুজ্জামান পপলু ও মাইশা তাসনিমের বাড়ি যশোর শহরের ঘোপ এলাকায়।

শেয়ার