আগুনের ক্ষত সারছে, মনের?

Burn
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ধানমন্ডি সিটি হাসপাতাল- পেট্রোল বোমার ক্ষত নিয়ে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে দুই বছর বয়সী সাফের ইসলাম। চিকিৎসক দম্পতির এই শিশু এখন অপরিচিত কাউকে দেখলে আতঙ্কে কেঁদে ওঠে, যেতে চায় না কারও কোলে।
বাবা ডা. সাইফুল ইসলাম ও মা ডা. শারমিন সিদ্দিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন, কেউ যেন সাফেরের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন।
সাফেরের খবর নিতে হাসপাতালে গেলে রিসিপশনে থাকা কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, “শিশুটির শরীরের ১৭ ভাগ আগুনে পুড়ে গেছে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই কান্না করে। এজন্য তার অভিভাবক অপরিচিত কাউকে শিশুটির সঙ্গে দেখা করতে দিতে চাইছেন না।”
বিএনপি জোটের লাগাতার অবরোধের মধ্যে গত ১৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় বাসে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় সাফেরের সঙ্গে দগ্ধ হন তৌহিদুল ও শারমিনও। আগুনের ক্ষত সেরে উঠলেও ছেলেকে নিয়ে দুর্ভাবনা কাটছে না তাদের।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিট- ২০১ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সুমন। শিশু সাফেরের মতো যুবক সুমনও আতঙ্কে।
গত ২৩ জানুয়ারি মুখ, পিঠ, শ্বাসনালীসহ শরীরের ১১ ভাগে আগুনের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এখন কিছুটা সুস্থ সুমন।
“সুস্থ তো হইতাছি। তয় বাড়ি ফিরনের সময় আবার নি শরীলে বোমা মাইরা দেয়। এইবার মারলে ভাই মইরাই যামু,” এ কথা সুমনের।
তার একথা শুনে উল্টো দিকের বিছানায় আধশোয়া হয়ে থাকা অগ্নিদগ্ধ নাজমুল বলে ওঠেন, “ভাই, হাসপাতালই এখন আমাগো জন্য ভালা। পোড়া শরীর আবার পুড়লে মরণ ছাড়া গতি নাই।”
গত ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় একটি বাসে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা ছুড়লে সুমন ও নাজমুলসহ ৩১ যাত্রী দগ্ধ হন।

৩১ জনের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন, অন্যরা সুস্থতার দিকে এগোলেও হামলার আতঙ্ক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তারা। তাই হাসপাতালকেই নিরাপদ আশ্রয়স্থল ভাবছেন তারা।
আতঙ্ক যে শুধু দগ্ধদেরই, তা নয়। রাজনৈতিক এই সহিংসতায় গত এক মাস ধরে গাড়িতে আগুন আর বোমাবাজিতে আতঙ্ক এখন সবার মনেই।
বগুড়ায় গত ২৩ জানুয়ারি পেট্রোল বোমায় দগ্ধ ট্রাকের হেলপার জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বিউটি বেগমের জন্য তা বিপত্তি নিয়ে এসেছে।
বার্ন ইউনিটে স্বামীর সঙ্গে থাকা এই নারী বলেন, “অবরোধ-হরতালে হাসপাতালে আমাগো খাবার দিতে ঢাকায় যেইসব আতœীয়, আছে তারাও আসতে পারতাছে না। কোনো বিপদ হইতে পারে বইলা তারা ভয় পায়। আমরাও তাগো কিছু কইবার পারি না।”

শেয়ার