ট্রাকে পেট্রোল বোমা, চালক আহত ও পুলিশের কাজে বাধা ঝিকরগাছার বিএনপি নেতা খোরশেদের নামে তিনটি মামলা, আসামি ৫৯

mamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ট্রাক চালককে আহত করা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। এ মামলা তিনটিতে খোরশেদ আলমসহ ৫৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত রোববার ৫টি বোমাসহ ছোট মেঘলা মাঠের মধ্যে থেকে তাকে আটক করা হয়।
কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মিজানুর রহমান জানান, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে হরতাল অবরোধের নামে নাশকতা করে আসছিল খোরশেদ চেয়ারম্যান ও তার পোষা সন্ত্রাসীরা। ওই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সময়ে গাড়িতে আগুন, ভাংচুর ও বোমা বিস্ফোরণসহ নানা ধরনের অপরাধ অপকর্ম চালিয়ে আসছে। গত রোববার থেকে সারাদেশে হরতালের ডাক দেয়ার সাথে সাথে শনিবার রাতে খোরশেদ চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সদর উপজেলার নতুন হাট বাজারে অবস্থান নেয়। এসময় চাল ভর্তি (ঢাকা মেট্রো-ট ১৪-৭৫৪৩) ট্রাক এবং (যশোর-ক-০২-০০৫৪) নম্বর একটি প্রাইভেটকার যশোরের দিকে আসছিল। সন্ত্রাসীরা প্রথমে গাড়ি দু’টি লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি এবং পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এসময় হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে ওই সন্ত্রাসীদের নাশকতা বন্ধের জন্য আহবান জানায়। কিন্তু সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আরো কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। নিজেদের জীবন, সরকারি অস্ত্র এবং সাধারণ জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এসময় ওই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু ওই সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া বোমা এবং গুলিতে ট্রাক চালক নাজিম গাজী আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চালক নাজিম গাজী এবং পোড়া দুইটি গাড়ি উদ্ধার করে। আহত নাজিমকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এঘটনার পর দিন রোববার বেলা ১২টার দিকে ৪টি পেট্রোল বোমা এবং একটি হাত বোমা ও অস্ত্র নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবারো নতুনহাট বাজারের দিকে নাশকতার উদ্দেশ্যে আসছিল। এসময় স্থানীয় জনগণ ধাওয়া করে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় খোরশেদ আলম ও তার ছেলে রাজুসহ অপর আসামিরা হলেন, ঝিকরগাছা উপজেলার তার ভাই আবু মুসা মিন্টু, মহাসিন আলী, জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের সরাফত হোসেন কল্লোল, কাকন, রানা, জহির হোসেন, মল্লিকপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম, মোবারকপুর গ্রামের নাজমুল হক নাজু, নিপুন, কমল, পদ্মপুকুরের আইয়ুব আলী মেম্বর, মিজানুর রহমান কালু, সদর উপজেলার বড় মেঘলা গ্রামের আব্দুল গফুর, ওবাইদুল, লিটন, বাবলুর রহমান, শহিদুল ইসলাম ও তাহিদুল ইসলাম, তুহিন, শরিফুল ইসলাম, নূর আলী, আব্দুল মালেক, সাহেব আলী, মামুন, মনিরুজ্জামান এন, সাজ্জাদ মহুরী, ছোট মেঘলা গ্রামের ঝন্টু, আক্তার হোসেন, তেঘরিয়া গ্রামের সাজ্জাদুল আলম বেলু, ফরমান, শহিদুল আমিন, হযরত আলী, খায়রুল ইসলাম, বাজে দুর্গাপুরের সাজ্জাদুল, নতুনহাটের মজিদ ওরফে মাজেদ, ইব্রাহিম, আশিক, রফিকুল, ডুমদিয়া গ্রামের আমিনুল, জিয়া মেম্বর, কাদের মুহুরী, মাহিদিয়ার মাহাবুবুর রহমান, আব্দুল মালেক, কৃষ্ণবাটি গ্রামের করিম মেম্বর, পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ইসহাক হারুন, ঝিকরগাছার জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি মকবুল হোসেন ও তার ছেলে মওদুদ, নওয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ, মির্জা, তেতুলিয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান মুকুল, যশোর শহরের জেলগেট এলাকা ইউনিক মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ইউনুচ আলী, শহরতলীর মুড়লী মোড়ের মারুফ হোসেন, শাহজাহান আলী মেম্বর, বিহারী রাজু আহম্মেদ, মণিরামপুরের পারখাজুরা গ্রামের ফজলুর রহমান ওরফে টুপি ফজলু ও আমানুর রহমান। পুলিশের কাজে বাধাদান, বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি এবং বোমাসহ উদ্ধারের ঘটনায় এতিনটি মামলা করা হয়।

শেয়ার