নাশকতা বন্ধে বিশেষ আইন করার দাবি

parlament
সমাজের কথা ডেস্ক॥

হরতাল-অবরোধে নাশকতা বন্ধে বিশেষ আইন করার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। পাশাপাশি নাশকতাকারীদের বিশেষ ট্রাইবুন্যালে বিচার করারও দাবি করেন একাধিক সংসদ সদস্য।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রথমে দাবি উত্থাপন করেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন। এরপর কথা বলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজী।
রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, সরকার একটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ও একটা সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলো। এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের গ্রহণের পর পরীক্ষা শুরুর একদিন আগে জানানো হলো সোমবারের পরীক্ষা শুক্রবার হবে। জ্বালাও-পোড়াও নাশকতা এখনো বন্ধ হয়নি। তাই ওই দিন (পরীক্ষার নির্ধারিত দিন) আবার বোমাবাজি করবে কি না, নাশকতা হবে কি না, এর নিশ্চয়তা কি আছে? বলা হচ্ছে কেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
কিন্তু পরীক্ষার্থীরা যখন বাসে বা টেম্পুতে আসবে তখন যদি বোমা মারা হয় এর নিরাপত্তা কে দেবে? তাই সংসদ থেকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইন করে নাশকতা বন্ধ করতে হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু বেতন ভাতা নেওয়ার জন্য সংসদে আসছি না। সংসদ থেকে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার যেকোন আইন করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় তিনি স্পিকারের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন। পরে স্পিকারের চেয়ারে বসা ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিষয়টি আসতে হলে একটি নোটিশের মাধ্যমেই আসতে হবে। পরে সংসদ বিষয়টি বিবেচনা করবে।
এর আগে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) কয়েকজন আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে সমাবেশ করেছেন। সেখান থেকে ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আপত্তিকর কথা বলেছেন। তারা সেখানে বলেন, খালেদা জিয়ার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য কেন উচ্চ আদালতে ‘সুয়োমোট’ দিল না। এটা স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতি এক ধরনের হুমকি দেওয়া। ১৩ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের পতন হবে বলে মন্তব্য করেছেন জয়নুল আবেদিন। সংবিধান অনুযায়ী একটি সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না তিনি। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ আইনে বিশ্বের কোথাও জঙ্গিবাদ দমন করা যায়নি। তাই বিশেষ আইন করে বিশেষ ট্রাইবুন্যালে জঙ্গিবাদের বিচার করা হোক।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নিয়ে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার দাবি করেন।
আব্দুর রহমান বলেন, প্রতিদিন মানুষ লাশ হচ্ছে। পত্রপত্রিকায় লাশের খবর আসছে। বিএনপির কর্মসূচীকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাই এদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শেয়ার