যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ॥ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আড্ডা দেয় বখাটেরা নেশার পাশাপাশি করে চুরি ছিনতাই

jessore hospital
এস হাসমী সাজু ॥
বখাটে ও মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল চত্ত্বর। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্বরত পুলিশকে অবগত করলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র মতে, বিকেল থেকে হাসপাতাল চত্ত্বরে বখাটে ও নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। তারা চত্ত্বরে বিভিন্ন স্থানে নেশা করে। এছাড়া হাসপাতালে থাকা রোগীর স্বজনদের ও শিক্ষানবীশ সেবিকাদের উত্ত্যক্ত করে থাকে। সর্বশেষ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের পশ্চিম পার্শ্বে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। বখাটেরা হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার সময় তার বন্ধু সুমন প্রতিবাদ করেন। এ সময় বখাটেরা তার কাছে থাকা মানিব্যাগ, মোবাইল সেট কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতা-হাতি হয়। পরে হাসপাতাল চত্ত্বরে দায়িত্বরত পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে সুমন এবং অপর পক্ষের দুই বখাটেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হচ্ছে যশোর শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মানিক চন্দ্র সরকারের ছেলে সুমন কুমার সরকার (২০) ও বখাটে অপু (১৮) যশোর ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে এবং একই এলাকার লিটন হোসেনের ছেলে হাসান আলী (২২)।
এদিকে, হাসপাতালে অবস্থানরত একাধিক স্টাফ অভিযোগ করেন প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শহরে কিছু বখাটে ও নেশাগ্রস্ত যুবক হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের পশ্চিম পার্শ্বে বিদ্যুত অফিসের সিঁড়ির উপর, নার্সিং ইন্সটিটিউটের সামনে করোনারি কেয়ার ইউনিট ও শিশু ওয়ার্ডের পূর্ব পার্শ্বের সিঁড়ি এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করে। এরা গাঁজা ও মদ সেবনসহ বিভিন্ন কৌশলে চুরি, ছিনতাই করে থাকে। এরা সুযোগ বুঝে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে রোগী ও স্বজনদের মালামাল চুরি করে। এদিকে হাসপাতালে রোগী দেখতে আসা আমজেদ হোসেন বলেন, শুক্রবার তার মেয়ে রিতাকে নিয়ে হাসপাতালের মডেল ওয়ার্ডে ভর্তি চাচাতো ভাই ইউসুফকে দেখতে আসি। তখন ওভার ব্রিজের পূর্ব কোনায় অবস্থানরত ৫/৬ জন যুবক মেয়েকে উদ্দেশ্য করে নোংরা মন্তব্য করে। ওয়ার্ড থেকে না বের হওয়া পর্যন্ত তারা মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করছিল বলেও অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ ইয়াকুব আলী মোল্লা একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। পরে তিনি অবসরে যাওয়ার পর পুনরায় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করা হয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত এএসআই তুহিন বলেন, যারা চত্ত্বরে আড্ডা দেয় তাদের সকলে হাসপাতালের আশপাশের বাসিন্দা। তাদেরকে আটক করা হলেও বিভিন্ন চাপে পুলিশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

শেয়ার