যশোরে সংবাদ সম্মেলনে পিতা নুরুল ইসলাম ডা.শামারুখ ‘হত্যা’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন দাবি

samaru
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ডা.শামারুখ মাহজাবীন সুমী ‘হত্যা’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দাবি করেছেন প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবির কথা জানান। মামলাটি তদন্ত করছেন ঢাকার সিআইডি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুন্সী রুহুল কুদ্দুস।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা.শামারুখের বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাদী পক্ষের লোকজনকে নানাভাবে হয়রাণি করছে। বিবাদীদের গ্রেফতার না করে উল্টো আমার পরিবারের তিনজন সদস্যকে অফিসে ডেকে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা জেরা করেছেন এবং মামলাটির মেরিট সম্পর্কে নেগেটিভ কমেন্টস করেছেন। অথচ টিপু সুলতানের বাড়ির কাজের লোক, ড্রাইভার ও নিরাপত্তা প্রহরীদের অফিসে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বাড়ি নড়াইলে। টিপু সুলতানের বাপ দাদার বাড়িও নড়াইলের চন্ডিমাপুর ইউনিয়নের গোয়াল বাথান গ্রামে। তারা পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা। এজন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি আমি আস্থাহীন। তার হাতে মামলা থাকলে আমি কখনই ন্যায় বিচার পাবো না। একজন নিরপেক্ষ সৎ উদ্দমী কর্মকর্তা দ্বারা তদন্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিতর্কিত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন কোনক্রমেই বিবেচনায় আনা যাবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইডিইবি জেলা কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন, সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন খান, হেমায়েত হোসেন, হাবিবা শেফা, উম্মে কুলসুম আলো প্রমুখ।
২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় ‘নিহত’ হন যশোর-৫ আসনের সাবেক সাংসদ খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মাহজাবিন সুমি। এ ঘটনায় নিহত সুমির পিতা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে হত্যা মামলা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুমির লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ১৪ নভেম্বর লাশ যশোরে এনে কারবালায় দাফন করা হয়। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যা নির্ধারণ হওয়ায় ২৩ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে লাশ পুনঃময়না তদন্তের জন্য নিহত সুমির পিতা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম আদালতে আবেদন করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ডা. সুমির লাশ পুনরায় উত্তোলন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ যশোরে আসলে গত বছর ৪ ডিসেম্বর ডা. সুমির লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। এ সময় ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা সুমির শরীরের ও কবরের মাটি সাইন্স এন্ড ল্যাবরেটরিতে ক্যামিকাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু গত ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্যামিকাল রিপোর্ট ঢাকা থেকে না আসায় ১৬ ডিসেম্বর যশোর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ থেকে আদালতে আংশিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

শেয়ার