শঙ্কা আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী

fil
সমাজের কথা ডেস্ক॥ অবরোধের সঙ্গে হরতাল যুক্ত হওয়ায় শঙ্কিত পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা পরীক্ষা নিয়ে রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। লাগাতার অবরোধ চালিয়ে আসা বিএনপি জোট রোববার থেকে বুধবার তিন দিনের হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার দুদিনই পরীক্ষার মধ্যে পড়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, পরীক্ষার একদিন আগে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক অবস্থান যখন বিপরীত মেরুতে সেই অবস্থায়ও কোন কোন শিক্ষার্থী যথাসময়ে পরীক্ষায় বসার বিষয়ে আগ্রহী। অবশ্য বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক হরতালে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়া নিরাপদ মনে করছেন না।
ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, পরীক্ষার দিনগুলোতে অন্তত অবরোধ ও হরতাল দেওয়া থেকে বিরত থাকবে বিরোধী জোট।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন।
যথা সময়ে পরীক্ষা দিতে অনড় বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আমীর সোহেল বলেন, “প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে না পারলে ওই পরীক্ষা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যেমন করেই হোক ঠিক সময়েই আমরা পরীক্ষা দিতে চাই।”
তবে মিরপুরের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, “অবরোধ ও হরতালের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া অসম্ভব। কোন হরতালেই আমি বাসা থেকে বের হই না। কিন্তু হরতালে পরীক্ষা নিলে কীভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাব, এটা অসম্ভব।”
পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, হরতাল-অবরোধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেবে সংস্থাটি।
এরই মধ্যে শনিবার বিএনপি জোটের নতুন কর্মসূচিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার মধ্যে হরতাল-অবরোধ না দেওয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন।
কর্মসূচি প্রত্যাহারে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ও ঘেরাও করে একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে প্রতি সপ্তাহেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতালও ডাকছে বিএনপি জোট। এসব কর্মসূচিতে সহিংসতা ও নাশকতায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৯ জনের।
আহমেদ শরীফ নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। অবরোধের মধ্যে বোমা মেরে যেভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে ছেলেকে বাড়ি থেকে বের হতে দিতেই তো ভয় লাগে।
“পরীক্ষা নিয়ে যে কী হয় শুধু আমার ছেলে নয় আমরাও সেই চিন্তায় আছি। আমরা এর সমাধান চাই।”
পরীক্ষা নিয়ে ‘নোংরা রাজনীতি’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
এদেরই একজন ব্যাংক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “কোন দলই ভাল না। সবার মধ্যেই ক্ষমতার লোভ, এরা দেশ নিয়ে ভাবে না। দেশ নিয়ে ভাবলে কেউই এমন করতে পারত না।
“রাজনীতিবিদদের ছেলেমেয়েরা তো দেশে পড়াশোনা করে। তাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বারটা বাজলেও তাদের কিছু যায় আসে না।”
ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংগঠন ‘অভিভাবক ফোরামের’ চেয়ারম্যান জিয়াউল কবীর দুলু বলেন, শিক্ষার্থীরা বলির পাঠা হয়ে গেছে, এনিয়ে আর কিছুই বলার নেই।
পাবলিক পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি নিয়ে দুই দলকে এক সঙ্গে বসে একটি সিদ্ধান্তে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
পরীক্ষা পেছালে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাবর্ষ শেষ করা নিয়ে জটিলতার কথা জানালেন ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ।
তিনি বলেন, সাত দিনও যদি পরীক্ষা পিছিয়ে যায় তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষাবর্ষ নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যাবে না।

“অবরোধ কবে শেষ হবে সেকথা তো কেউই বলতে পারছে না। আমরা যে পরীক্ষা পেছাব কীভাবে পেছাব?”

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রীকান্ত জানান, “এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আছে ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা হবে।”
বিএনপি-জামায়াতের হরতালে ২০১৩ সালের এসএসসির ৩৭টি বিষয় এবং এইচএসসির ৪১টি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যায়।

ওই বছরের জেএসসি-জেডিসির ১৭টি বিষয় এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীর দুটি বিষয়ের পরীক্ষা হরতালের কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গত বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত জেএসসি-জেডিসি এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষাও বিএনপির হরতালের কবলে পড়লে বেশ কয়েকটি পরীক্ষাও পিছিয়ে যায়।

শেয়ার