সাগরদাঁড়িতে জমে উঠেছে মধুমেলা ॥ মধুসূদন পদক পাচ্ছেন ড. রবিউল ও সাংবাদিক হালিম

modhumela
নিজস্ব প্রতিবেদক, কেশবপুর॥ হাজারো প্রাণের উচ্ছ্বাসে জমে উঠেছে মধুমেলা। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র ১৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেশবপুরের কপোতাক্ষ তীরের সাগরদাঁড়ীতে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে এই মেলা শুরু হয়। আজ মেলার শেষ দিন। তবে সময় বাড়ানোর দাবি তোলা হয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত আয়োজক কমিটি কিছুই জানায়নি। এবছর গবেষনা ধর্মী সাহিত্যে ড. রবিউল হোসেন ও সৃজনশীল কবিতায় বাসস’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান বার্তা সম্পাদক হালিম আজাদ মধুসূদন পদক পাচ্ছেন। আজ মনোনীতদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কবির জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব শরীফ রায়হান কবীর।
প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার নারী পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মধুভক্ত মানুষ মেলায় ভীঁড় জমিয়ে এবারের মেলাকে জমজমাট করে তুলছেন। মাঠে মধুমঞ্চে মন্ত্রী, এমপি ও দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিকদের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রা, সার্কাস, যাদু প্রদর্শনী দেখে এবং নাগরদোলায় চড়ে সময় কাটাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সারাক্ষণ মেলার মাঠে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী কেনাকাটায় রয়েছেন ব্যস্ত। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মধুভক্তরা ঘুরে ফিরছেন নিরাপদে। দুরদুরান্তের দর্শকরা গভীর রাত অবধি উপভোগ করছেন মেলা। এবারের মেলায় প্রতিটি স্টলেই আগত মধুপ্রেমী দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হচ্ছে শিশুদের খেলনা জাতীয় দ্রব্য। রেশমী চুড়িসহ মেয়েদের সাজগোজের অন্যান্য মালামালও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। মেলার মাঠে এবার ছোট বড় মিলে আড়াই হাজার শতাধিক স্টল বসেছে। মেলার মাঠে মিষ্টির দোকানগুলোতে ভাজা চানাচুর, মোয়া মুড়ি, নানা জাতীয় মিষ্টির পাশাপাশি এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রসগোল¬া বানিয়ে সাজানো হয়েছে। মেলার মাঠে শীতের কম্বল ঠাঁই পেয়েছে। ঢাকা থেকে আসা বেশ কয়েকটি স্টল মালিকরা জানালেন, এবার তাদের বেঁচাকেনা নেই। মধুমেলার মাঠে বসানো হয়েছে কেশবপুর উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে কৃষি প্রদর্শনীর স্টল। এ স্টলে রাখা হয়েছে কৃষকের উৎপাদিত বড় বড় ফল ফলাদি। যে একবার মধুমেলার মাঠে আসছেন তিনি কৃষি প্রদর্শনীর স্টল না দেখে ফিরছেন না বলে কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস দাবি করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কবির জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব শরীফ রায়হান কবীর জানান, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মধুমেলায় বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ আসছেন। দর্শনার্থীরা সারাক্ষণ মেলার মাঠে সার্কাস, মৃত্যুকুপে মটর সাইকেল চালানো, চড়ছেন নাগরদোলায়। মেলার মাঠের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। সার্বিক আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সচেষ্ট রয়েছেন। তিনি আরো জানান, মধুমঞ্চে আলোচনা অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধুসূদনের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে যে ধরনের বক্তব্য বেরিয়ে আসছে তাতে আমাদের বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, মেলার মাঠের পরিবেশ শান্তি পুর্ণ রাখতে সর্বাত্মক সর্তকতা নেয়া হয়েছে। মেলার মাঠ ইজারাদারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অবরোধ থাকায় প্রথম দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় কম থাকায় মেলার খরচ উঠছে না। মেলার অন্ততঃ ২ দিন বৃদ্ধি করার দাবি জানানো হয়েছে।

শেয়ার