মেক্সিকোয় নিখোঁজ সেই ৪৩ ছাত্র মরিয়া প্রমাণ করিল তারা মরিয়াছে

Mexcio
সমাজের কথা ডেস্ক॥
তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর কতো নাটকই না হলো। নাটকীয়তা দেখালো-সরকার, প্রশাসন, পৃথক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দফতর, এমনকি অপরাধী চক্রগুলোও। বিভিন্ন সূত্র অনেক আগেই তাদের হত্যা করার কথা বললেও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, তার অধীন প্রশাসনিক বিভাগ, পৃথক পৃথক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ নিয়ে বারবার সন্দেহের ধুয়ো তুলছিল, এমনকি অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীদের হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার কথা বলা হলেও আবারও ‘অনিশ্চয়তা’র আজগুবি গল্প ছড়ানো হতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর ওই ৪৩ শিক্ষার্থীর অপহরণের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করলেন, ‘নিখোঁজ কলেজ শিক্ষার্থীদের হত্যাই করা হয়েছে এবং হত্যার পর তাদের পুড়িয়েও ফেলা হয়েছে।’

আর সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ হওয়ার পর এ হত্যাকা-ের খবরটি হতভাগ্য পরিবারগুলো পেল প্রায় চার মাস পর।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর ইগুয়ালা শহরে বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ওই শিক্ষার্থীদের আটক করে পুলিশ। পরে কৌশলে স্থানীয় কুখ্যাত মাদক চক্র গুয়েরেরোস ইউনিডোসের হাতে তাদের তুলে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনাকে পুরো মেক্সিকোকে স্তম্ভিত করে। আলোড়িত হয় সারা বিশ্বও। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েটো। তবে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের সম্মুখীন করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা গুয়েরোরো প্রদেশের একটি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার দিন পাশ্ববর্তী ইগুয়ালা প্রদেশে একটি বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তারা।

এ ঘটনায় মোট ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ইগুয়ালার মেয়র হোসে লুইস আবার্কাও রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিখোঁজের ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। দাবি করা হয়, ওই মেয়রই পুলিশকে শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শেয়ার