পদকজয়ের পরদিন নিহত হলেন কর্নেল

MN Rai
সমাজের কথা ডেস্ক॥ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সাহসিকতার সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘যুদ্ধ সেবা পদক’ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাশ্মিরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্নেল নিহত হয়েছেন।
এনডিটিভি বলছে, সোমবার ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড অনুষ্ঠানে সাহসিকতার ওই সর্বোচ্চ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন কর্নেল মুনিন্দ্র নাথ রাই (৩৯)।

এর একদিন পর মঙ্গলবার দক্ষিণ কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এক অভিযানের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। এক বছরে কাশ্মিরে নিহত হওয়ার ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা তিনি।

পুলওয়ামা’র মিন্দোরা গ্রামের ওই গোলাগুলির ঘটনায় সঞ্জীব সিং নামের ভারতীয় পুলিশের এক সদস্য ও দুজন সন্ত্রাসীও নিহত হয়েছেন।

কর্নেল রাই উত্তর প্রদেশের মির্জাপুর থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এসেছিলেন। তিনি ভারতীয় সেনবাহিনীর পদাতিক বিভাগের ৪২ রাষ্ট্রীয় রাইফেল’র অধিনায়ক ছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে গোয়েন্দা সূত্রে তিনি খবর পান, মিন্দোরার একটি বাড়িতে সন্ত্রাসীরা লুকিয়ে আছে।

সঙ্গে সঙ্গেই আট থেকে ১২ জনের একটি দ্রুত অ্যাকশন টিম নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে হাজির হন। জম্মু ও কাশ্মির পুলিশের স্থানীয় বিশেষ অভিযান বাহিনীর একটি দলও তাদের সঙ্গে ছিল।

সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাইয়ের দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। বাড়িটির বাসিন্দারা (যাদের নিহত সন্ত্রাসীদের আত্মীয় বলে মনে করা হচ্ছে) পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু না করার জন্য তাদের অনুরোধ জানান।

পূর্ণমাত্রার অভিযানের ফলে পুরো গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বিবেচনায় অভিযান শুরু না করে ওই বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য এগিয়ে যান। এ সময় দুজন সন্ত্রাসী বের হয়ে এসে বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করে।

এতে পুলিশ বাহিনীর এক সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন ও কর্নেল রাইয়ের মাথায় গুলি লাগে। সঙ্গে থাকা রেডিও অপারেটরের গুলিতে সন্ত্রাসীরা নিহত হন, রেডিও অপারেটর নিজেও আহত হন।

হাসাপাতালে নেয়ার পর কর্নেল মারা যান।

২০১৪ সালে সরাসরি লড়াইয়ে এক বিদেশি সন্ত্রাসীকে হত্যার জন্য গুর্খা রেজিমেন্টের কর্মকর্তা রাই ‘যুদ্ধ সেবা মেডাল’ পেয়েছিলেন। সঙ্গী কর্মকর্তারা তাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া এক সাহসী সেনা হিসেবে জানতেন।

শেয়ার