ডাঃ সুমি হত্যাকাণ্ড ॥ পুনঃ ময়না তদন্তেও হত্যা বা আত্মহত্যা নিশ্চিত হয়নি প্রথম প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত করবে পুলিশ

hottakando 2
এস হাসমী সাজু॥
ডাঃ শামারুখ মাহজাবিন সুমির লাশের পুনঃ ময়না তদন্তে কোন বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়াও শরীরের অধিকাংশ স্থানে পচনের সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি হত্যা না ‘আত্মহত্যা’ তা নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ফলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের আলোকে ‘হত্যা না আত্মহত্যা’ বিষয়টি নির্ধারণ করবেন বলে ক্যামিকাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডাঃ হুসাইন সাফায়েত। তিনি বলেন, চলতি মাসের ৯ জানুয়ারি ঢাকা মহাখালি ফরেনসিক সাইন্স এন্ড ল্যাবরেটরি থেকে সুমির ক্যামিকাল প্রতিবেদনটি কলেজ কর্তৃপক্ষ পাওয়া মাত্র যশোরের সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বছর ১৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় নিহত হন যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডাঃ শামারুখ মাহজাবিন সুমি। এ ঘটনায় নিহত সুমির পিতা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে হত্যা মামলা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুমির লাশের ময়না তদন্ত শেষে ১৪ নভেম্বর লাশ যশোরে এনে কারবালায় দাফন করা হয়।
অপরদিকে ২৩ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে লাশ পুনঃ ময়না তদন্তের জন্য নিহত সুমির পিতা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম আদালতে আবেদন করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ডাঃ সুমির লাশ পূনরায় উত্তোলন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ যশোরে আসলে গত বছর ৪ ডিসেম্বর ডাঃ সুমির লাশ উত্তোলন করে পূণরায় ময়না তদন্ত করা হয়। এ সময় ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা সুমির শরীরের ও কবরের মাটিসহ ১১টি আলামত সংগ্রহ করে ঢাকা মহাখালি ফরেনসিক সাইন্স এন্ড ল্যাবরেটরিরতে ক্যামিকাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু গত ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্যামিকাল রিপোর্ট ঢাকা থেকে না আসায় ১৬ ডিসেম্বর যশোর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ থেকে আদালতে আংশিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
এদিকে, গত ৯ জানুয়ারি ঢাকা মহাখালি ফরেনসিক সাইন্স এন্ড ল্যাবরেটরি থেকে যশোর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ডাঃ সুমির লাশের পুনঃময়না তদন্তের ক্যামিকাল প্রতিবেদন আসে। এতে উল্লেখ করা হয় সুমির শরীরে কোথাও বিষ পাওয়া যায়নি এবং লাশের অধিকাংশ পচে যাওয়ায় ‘হত্যা না আত্মহত্যা’ বিষয়টি নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুমির ময়না তদন্তের প্রথম রিপোর্টই মামলার তদন্তে অনুসরণ করতে হবে। প্রথম প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত সাপেক্ষে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করবেন।
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা রমনা সিআইডি জোনের এ এসপি মুন্সি রুহুল কুদ্দুসের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে যশোর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক হুসাইন সাফায়েত বলেন, গত ৯ জানুয়ারি ক্যামিকাল রিপোর্ট যশোরে আসে এবং ১২ জানুয়ারি যশোর সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন মূলত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে বের করবেন আসলে ডাঃ সুমিকে হত্যা করা হয়েছে না কি সুমি আত্মহত্যা করেছেন।

শেয়ার