এক সপ্তাহ হতে চললেও ঝিকরগাছার আ’লীগ কর্মী হুমায়ুন’র খুনিরা আটক হয়নি ॥ আসামিরা অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা

humki
গোপী নাথ দাস ॥
প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও ঝিকরগাছার আওয়ামী লীগ কর্মী হুমায়ুন হত্যা মামলার কোন আসামিকে পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি। মামলার আসামিরা এলাকা থেকে হুমকি দিচ্ছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করলেও পুলিশ এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে কিছুই করছে না বলে স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
গত ২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঝিকরগাছার কুন্দিপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে হুমায়ুন কবিরকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। হত্যাকারীদের সাথে নিহতের পরিবারের এলাকায় বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এর জের ধরে নিহতের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা, মামলা, দোকান ভাংচুরসহ নানা নিপীড়ন করে আসছিল। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার ২০১৪ সালের ৪ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ করে। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঝিকরগাছা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ঝিকরগাছা পুলিশ প্রভাবশালী মহলের চাপে উল্টো নিহতের পরিবারের নামে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করার কারণে হুমায়ুনসহ অন্যান্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই অংশ হিসেবে হুমায়ুনকে হত্যা করা হয়।
সূত্র মতে, হুমায়ুন হত্যার দিন হত্যা মামলার আসামিরা এলাকার এক কামারের দোকান থেকে ছুরি ধার করতে দেখেছে বলে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছে। হত্যাকারীরা এতটাই প্রভাবশালী যে জীবনের ভয়ে তার নাম প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছে না কেউ।
উল্লেখ্য, নিহতের ছোট ভাই আওরঙ্গজেব গত বছর ৪ মে আসামি মৃত রজব আলীর ছেলে ফজলুর রহমান, মৃত শুকুর আলীর ছেলে হাফিজুল হক, ইউনুস আলীর ছেলে বাশার, শাহরুল, মৃত শমসের আলীর ছেলে শরিফুল, রফিকুল, আমিরুল, পিপুল, মৃত গোলাম নবীর ছেলে খোকা, মৃত কাওসার আলীর ছেলে রবিউল, তবি, রুবেল, সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহন, এসএম গাজীর ছেলে আলম, সিদ্দিকের ছেলে সান্টু, আলমের ছেলে বাবুল, সুরত আলীর ছেলে আশারেফ ওরফে গ্যাদা ও হাফিজুরের ছেলে চন্দনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপি দেওয়ার পর থেকে তারা প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা করে আসছিল বলে নিহতের পরিবার একাধিক বার ঝিকরগাছা পুলিশকে অবহিত করে। কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং হত্যাকারীদের শেল্টারদাতা প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারের উপর নির্যাতন করেছে। যা পুলিশ সুপার অবগত আছেন বলে নিহত হুমায়ুনের ভাই মামলার বাদী আওরঙ্গজেব দাবি করেছেন।

শেয়ার