শ্যামনগরে কোস্টগার্ড ও পুলিশের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য ॥ গালিব হত্যা মামলার বাদিসহ দু’জন আটক॥ অস্ত্রগুলি উদ্ধার নিয়ে ধুম্রজাল

cost gard
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের গাগড়ামারী এলাকা থেকে শনিবার ভোরে দুই বনদস্যুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশী তৈরী পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলি। আটককৃতরা হল শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের ইবাদত হোসেন ও গাগড়ামারী এলাকার আব্দুল জলিল । তবে ইবাদত হোসেনসহ দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও স্থানীয়রা সাংবাদিকদের পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গালিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলামের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলাটির বাদি ইবাদত হোসেনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এনিয়ে ধ্রুমজালের সৃষ্টি হয়েছে। অস্ত্রগুলি উদ্ধার মেকিং গেম বলেও মন্তব্য অনেকের। র‌্যাবের কর্মকান্ড নিয়ে দেশজুড়ে যখন তোলপাড় ঠিক সেই মুহুর্তে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ ভাঁটাখাটার সামিল বলেও মন্তব্য সচেতনমহলের। বিষয়টি তদন্তে সরকারের উপরিমহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মংলা কোস্টগার্ডের অপারেশন অফিসার লে. কমান্ডার আলাউদ্দীন নয়নের দাবি, ইবাদত হোসেন ও আব্দুল জলিল চিহিৃত বনদস্যু। শনিবার ভোরে গাগড়ামারি এলাকা থেকে তাদের একটি দেশী পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়। এদিকে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, শ্যামনগর উপজেলায় কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছে। তবে আটককৃতদের বিরুদ্ধে দস্যুতাসহ অন্য কোন মামলা নেই বলে তিনি। উল্লেখ্য, গাগড়ামারী এলাকায় ৭শ’ বিঘার একটি ঘের নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর খুন হন ওই গ্রামের আসাদুল্লাহ আল গালিব। পরদিন নিহতের ভাগ্নে শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের ইবাদত হোসেন বাদি হয়ে রবিউল ইসলামকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তারপর থেকে মামলার বাদিকে ফাঁসাতে নানামুখি ষড়যন্ত্র হচ্ছিল বলে পরিবার সুত্রে দাবি করা হয়েছে।

শেয়ার