ঈদকে ঘিরে যশোরে মাংশ আর মুরগীর দাম চড়া ॥ পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মসলা ও সেমাই’র দাম, সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে চিনি আর পেয়াজ রসুনের বাজার

nittoproiojonio bajar
আরমান সজল ॥
এবারও ঈদকে ঘিরে গরু ও খাশির মাংশ, পোল্ট্রি ও দেশি মুরগীর দাম বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মসলার দাম। সেমাই তাও, নিম্ম আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তবু ঈদ বলে কথা, তাই সাধ আর সাধ্যের ভেতরে মানুষ আগে-ভাগে মাংস, মুরগী, মসলা ও সেমাই কিনতে ভীড় করছেন বাজারে। এনিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার অভিযোগেরও কোন শেষ নেই। ক্রেতার অভিযোগ ইচ্ছে-খুশি মতো সকাল বিকেল দাম বাড়ানো হচ্ছে। আর বিক্রেতা বলছেন বেশি দামে বেশি দামে বিক্রি করছি। মুদির দোকানীরা বলছেন মশলা বাড়ি তৈরি হয় না। ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী হয়। পাইকারদের কাছ থেকে কিনে তারা বিক্রি করেন। এক্ষেত্রে খাপছাড়া বা ইচ্ছে খুশি-মতো দাম নেয়ার অভিযোগ অবান্তর। সব জিনিসের মতো মশসলার দামও বেড়েছে। এক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার নেই। তবে সব পণ্যের বাজারে প্রশাসনের নজরদারী থাকা উচিত। কিছু নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় করে যাচ্ছে সরকার কিন্তু শত শত কোটি টাকার ব্যবসা নিয়ে কোন মাথা-ব্যাথা নেই। যেকারণে ইচ্ছে-খুশি মতো দাম নেয়ার অভিযোগ ক্রেতার মুখে মুখে। সিমাই’র দাম বৃদ্ধিরও যুক্তি আছে বলে মনে করেন অনেক মুদি ব্যবসায়ী।
মাংসে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০-১২ টাকা হারে এবং মসলা ও সেমাইয়ের দাম বেড়েছে লাগামছাড়া। এদিকে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ২৬০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, শাসির মাংস ৪৬০ টাকা, বয়লার ১৫০ টাকা দেশি মুরগি ২০৮ টাকা। এছাড়া মসলা কেজিপ্রতি কাজু বাদাম ৮শ’ টাকা, জরনী ১ হাজার ৭শ’ টাকা গোলমরিচ ১ হাজার টাকা, কিছমিছ ২৮০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪শ’ টাকা, দালচিনি ২৮০ টাকা, জিরা ৩৫০ টাকা, শাহা মরিচ ১ হাজার টাকা এবং সেমাই কেজিপ্রতি খোলা হাতের তৈরি ৩০ টাকা, লাকছা ৮০/৯০ টাকা পর্যন্ত।
যশোর শহরের হাটখোলা রোড, বাবু বাজার, বড় বাজার, রেল স্টেশন, বাবলাতলা, ঘোপ বৌ বাজার, চুয়াডাঙ্গা, কাঠেরপুল, মাংসের মার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতার ভীড়। ঈদ উপলক্ষে মাংশের দোকানগুলোকে সাজানো হয়েছে নতুন রুপে। দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতার ভীড় জমলেও কিনছেন কম। কাঠেরপুল এলাকার প্রিয়া মাংস ঘর থেকে ঈদ উপলক্ষে বিরামপুর এলাকার রাশেদুল দেড়কেজি গরুর মাংস কিনেছেন। তিনি সমাজের কথাকে জানান, গত মাসে মাংস কিনেছি ২৫০ টাকা দরে, এখন বেড়ে হয়েছে ২৭০ টাকা। তাই দুই কেজি মাংশ কেনার ইচ্ছে থাকলেও কিনতে হলো দেড় কেজি। কাঠেরপুল এলাকার মাংস বিক্রেতা ছাবির উদ্দিন জানান, গরুর দাম ঈদ উপলক্ষে অনেক বেড়েছে। হাটে গরু কিনে পরতা করা যাচ্ছে না। যেভাবে গরুর দাম বেড়েছে সেভাবে মাংশের দান বাড়েনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বরং মুনাফা কমে গেছে মাংশ বিক্রেতাদের। আরিফপুরের বাবুল মিয়া বললেন, পোল্ট্রিও খাওয়ার জো নেই। সকাল বিকেল দাম বাড়ানো হচ্ছে। ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় কেজি কিনছিলাম, এখন বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। দেশি মুরগী বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ৩১০ টাকা কেজি দরে। খাশির মাংশের নির্দিস্ট কোন দাম নেই। কেউ বিক্রি করছেন ৩৫০ টাকা কেজি, কেউ আবার ৪৫০ টাকাও নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে ধাড়ি ছাগল জবাই করে খাশি বলে বিক্রি করছেন অনেকে। আবার ভোর রাতে জবাই করা মাংশ বিকেলে গন্ধ ছুটতে শুরু করলে দাম কমিয়ে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। যেকারণে সময় ও বাজার বেদে খাশির মাংশের দামের হেরফের অনেক। হাটখোলা রোডের মুদি দোকান থেকে মসলা ও সেমাই কিনে বাড়ি ফিরছিলেন বেজপাড়া এলাকার শান্ত। তিনি সমাজের কথাকে জানান, বাবারে কি আর কিনবো ? ঈদে ভাল-মন্দ খাবার উপায় নেই। যে হারে মসলা ও সেমাইয়ের দাম বেড়েছে, ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তিনি খুবই সামান্য পরিমাণ মসলা আর ৫০০ গ্রাম সেমাই কিনে বাড়ি ফিরছেন। এদিকে শহরের কয়েক মুদি দোকানি বিধান দা জানান, মসলার দাম আগে থেকেই বেশি। ভারতীয় জিরা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ইরানির দাম একটু বেশি। এলাচ, গোলমরিচ, লবঙ্গ আগের দামের বিক্রি হচ্ছে। সেমাইয়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। পিয়াজের দাম বাড়েনি। স্থিতিশীল রয়েছে রসুনের বাজার।

শেয়ার