‘আব্বুর সাথে আর কোনোদিন ঈদগাহে যাওয়া হবে না’ ॥ নিহত আলমগীরের পরিবারে ঈদ আনন্দ নেই

alomgir
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ‘আব্বুর সাথে প্রতি ঈদে ঈদগাহে যেতাম, কিন্তু আর কোনো দিন যাওয়া হবে না’ ছোট শিশু ফারদিন মাহমুদ অরিদ আবেগাপ্লুত হয়ে গতকাল এভাবেই পিতা আলমগীর হোসেনকে স্মরণ করে একথা বলছিলেন। ছোট শিশুর এমন উপলব্ধিতে থেমে গেল উপস্থিত সকলের কথা। সৃষ্টি হলো শোকের পরিবেশ। গত দুমাস ধরেই এ পরিবেশ চলছে নিহত আলমগীর হোসেনের বাড়িতে। দু’দিন বাদেই ঘরে ঘরে ঈদুল ফিতরের যে উৎসবপ্রস্তুতি চলছে এ বাড়িতে সেটা নেই। ২৫ মে চিহ্ণিত সন্ত্রাসীদের ছোড়া বোমা ও গুলিতে আলমগীর নিহত হওয়ার পর যেন থেমে গেছেন তার পরিবারের হাসি আর আনন্দ। আলমগীর যশোর সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
রামনগর ইউনিয়নবাসীর প্রিয়মুখ ছিল আলমগীর হোসেন। প্রতি বছর ঈদ আসলেই এলাকার গরীব মিসকিনদের যাকাত-ফিতরা দিতেন। তাছাড়া স্ত্রী ও ছেলেদের কাপড় চোপড় কিনতেন নিজ হাতেই। ঈদের দিন সকালে ছেলে দু’টিকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের মাঠে নামাজ পড়তে যেতেন। স্ত্রী ও ছেলেদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতেন। কিন্তু সকল হাসি-আনন্দ মাটিতে মিশে গেছে। এবারের ঈদে ছেলেদের কাপড় চোপড় কেনাকাটাও তেমন হয়নি।
নিহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী নাজমুন নাহান জানান, ঈদ এলেই বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়িতে লোকজন আসে। তাই ঈদের দিনে কোথাও বেড়ানো হতো না। কিন্তু ঈদের পরদিন দুই ছেলেসহ তারা পরিবারের সকলেই বেড়াতে যেতেন। তবে ছেলে দুটি পছন্দ অনুযায়ী কোন আত্মীয় বাড়িতে না যেয়ে পার্কে যেতে হতো। তাছাড়া ঈদের কাপড় চোপড় তিনি নিজ হাতেই কেনাকাটা করতেন। এবারের ঈদে তার স্ত্রী নাজমুন নাহার ছেলেদের জন্য সামান্য কেনাকাটা করেছেন।
বড় ছেলে ফয়সাল মাহমুদ জানায়, ‘আব্বুর সাথে ঈদের দিন সকালে গোসল করে নামাজ পড়তে যেতাম। এবারের ঈদের আর তা হবেনা। কারণ কেউ হয়তো ঘুম থেকে ডেকেই তুলবেনা। আর কেউ কোলের উপর বসিয়ে নামাজ পড়তে বসবেনা।’
সে আরো জানায় প্রতি বছর ঈদের দির বাড়িতে অনেক লোকজন আসতো। আমরাও ওই সব লোকের সঙ্গে তাদের বাড়িতে আব্বুর সাথে যেতাম। এবার আর কেউ আমাদের বাড়িতে আসবেনা। তাই আমরাও কারো বাড়িতে যাবোনা। সারাদিন শুধু বাড়িতে থেকে ঘুমাবো।
তার ছোট ছেলে ফারদিন মাহমুদ অরিদ বলেছে, গত ঈদে তার বাবার সাথে জেস গার্ডেন পার্কে গিয়েছিল। এবারের ঈদেও তাদের অন্য কোন পার্কে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীরা আমার আব্বুকে মেরে ফেলেছে। তাই কোথাও বেড়াতে যাওয়া হবেনা।
কেনাকাটা প্রসঙ্গে অরিদ আরো বলেছে তার আব্বু ভাল কাপড় কিনে দিতো। এবারের কাপড়ও ভাল হয়েছে, কিন্তু আব্বু থাকলে আরো ভাল হতো। এবারের ঈদের আনন্দ মাটিতে মিশে গেছে। আমাদের আর ঈদের আনন্দ নেই।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার আসামিরা কেউ কেউ এলাকায় প্রবেশ করছে। কিন্তু প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেয়ায় তারা এলাকায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। নিহতের পরিবার তথা এলাকাবাসীর দাবি আলমগীরের খুনিদের আটক করে শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে তারা আবারো কাউকে খুন করতে পারে। ঈদ সামনে খুনিরা এলাকায় প্রবেশ করলে পুরো এলাকাবাসীর ঈদ আনন্দ আতঙ্কে ঢেকে যাবে। এ ঘটনায় দুই মাস পার হলেও কোন আসামি আটক হয়নি।

শেয়ার