আল বিদা মাহে রমজান

albida maheromadan
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ২৩ রমজান, মঙ্গলবার। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে গত হয়েছে ২২টি দিবস। সিয়াম পালনকারীর জন্য কত না খুশির বার্তা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দরজা দিয়ে বেহেশতে প্রবেশ করানো হবে। এই দরজার বিশেষ নাম রয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসের দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা হলো।
সাহাল ইবন সাদ থেকে বর্ণিত, “জান্নাতে ৮টি দরজা, তাতে একটি দরজাকে ‘রাইয়ান’ বলা হয়, তা দিয়ে রোজাদার ব্যতীত কেউ ‎প্রবেশ করবে না।’’ বুখারির বর্ণিত শব্দে হাদিসটি এসেছে এভাবে, ‘নিশ্চই জান্নাতে একটি দরজা আছে, যাকে বলা হয় রাইয়ান, কিয়ামতের দিন তা দিয়ে রোজাদার প্রবেশ করবে। তারা ব্যতীত কেউ সেখান থেকে প্রবেশ করবে না। বলা হবে, রোজাদারগণ কোথায়? ফলে তারা দাঁড়াবে, তাদের ব্যতীত কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। যখন তারা প্রবেশ করবে, তখন বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতঃপর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না।’ ‎তিরমিযির বর্ণিত শব্দ, ‘জান্নাতে একটি দরজা আছে, যাকে রাইয়ান বলা হয়, তার জন্য রোজাদারদের আহ্বান করা হবে, যে রোজাদাররা অন্তর্ভুক্ত হবেন, তারা তাতে প্রবেশ করবে। যে তাতে প্রবেশ করবে, সে কখনও পিপাসার্ত হবে না।‎’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় যে দুটি জিনিস খরচ করল, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে, হে আব্দুল্লাহ, এটা কল্যাণ। যে সালাত আদায়কারী তাকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে, যে মুজাহিদ তাকে ‎জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে, যে রোজাদার তাকে রাইয়ান দরজা থেকে ডাকা হবে, যে দানশীল ‎তাকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল, আমার মাতা-পিতা আপনার ওপর উৎসর্গ। যাকে এক দরজা থেকে ডাকা হবে না, তার বিষয়টি পরিষ্কার, কিন্তু কাউকে কি সকল দরজা থেকে ডাকা হবে? তিনি বললেন : হ্যাঁ, আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত।‎’ বুখারি ও মুসলিমের অন্য শব্দে এসেছে, ‘জান্নাতের প্রহরী তাকে ডাকবে। প্রত্যেক দরজার প্রহরী বলবে, হে অমুক, এসো।’ ইমাম আহমাদের বর্ণনামতে, ‘প্রত্যেক আমলের লোকের জন্য জান্নাতে একটি করে দরজা আছে, তাদের সে আমল দ্বারা ডাকা হবে। রোজাদারদের একটি দরজা রয়েছে, তাদের সেখান থেকে ডাকা হবে, যাকে বলা হয় রাইয়ান।’ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ ‎বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল, কাউকে কি সব দরজা থেকে ডাকা হবে? তিনি বললেন : হ্যাঁ, আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হে আবু বকর।’ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু‎র উদ্দেশ্য, যাকে জান্নাতের একটি দরজা দিয়ে ডাকা হলো, তার জন্য এটাই যথেষ্ট। প্রত্যেক দরজা থেকে ডাকার প্রয়োজন নেই। কারণ মূল উদ্দেশ্য জান্নাতে প্রবেশ করা, যা এক দরজা দিয়ে সম্পন্ন হয়। তারপরও কাউকে কি সব দরজা থেকে ডাকা হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হ্যাঁ বলে উত্তর দিলেন।
আলোচ্য বিষয়ের হাদিসগুলো থেকে অর্জিত শিক্ষা ও মাসায়েল : এক. রোজার ফজিলত হলো- তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজা থেকে একটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দুই. ‘বাবে রাইয়ান’ জান্নাতের একটি দরজার নাম। ‘রাইয়ান’ (আররাইয়ান) শব্দটি ‎আররাইয়ু ধাতু থেকে নেওয়া, যা পিপাসার বিপরীত। রোজাদার যেহেতু নিজেকে পানি থেকে বিরত রাখে, যা ‎মানুষের খুব প্রয়োজন, সেহেতু তার যথাযথ প্রতিদান হিসেবে আখিরাতে তাকে পান করানো হবে, যার পর কখনো সে তৃষ্ণার্ত হবে না।

শেয়ার