তালায় বন্দুকযুদ্ধে বিএনপি নেতা বিপ্লব নিহত

bonduk juddho
সিরাজুল ইসলাম/আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ সাতক্ষীরার তালায় বিএনপি নেতা শেখ আব্দুল হালিম বিপ্লব পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি শালিখা কলেজের গনিতের প্রভাষকের চাকরি করতেন। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে নিজ গ্রাম দোহারে নাশকতার প্রস্তুতি নেয়ার সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ পুলিশ ও বিপ্লবের চাচাতো ভাইরা যৌথভাবে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তোজাম শেখ নামে একজনকে পরিকল্পনাকারী দাবি করে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও আসবাবপত্র বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
নিহতের চাচী রাবেয়া খাতুন জানান, বিপ্লবের বাবা শের আলী শহীদ হওয়ার পর তার অধিকাংশ সম্পত্তি তার চাচা মোকসেদ শেখের ৮ ছেলে জবর করে দখল করে রেখেছিল। পরে অনেক জমি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১৬ বিঘা বিলান জমি দখল নিতে পারেনি বিপ্লব। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। চাচাতো ভাইদের সাথে জমি-জমা, রাজনীতি ও পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন। একে অন্যের বিরুদ্ধে মামলা-পাল্টা মামলা ঠুকে হয়রাণী করার বিষয়টি ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। বিপ্লবের বিরুদ্ধে হত্যাসহ কমপক্ষে ১৬টি মামলা ছিল। যার অধিকাংশ মামলার বাদি ছিলেন চাচাতো ভাই তোজাম্মেল, মোজাম্মেল ও মাহমুদুর রহমান। ঘটনার দিন রাতে বিপ্লব সবেদ শেখ নামের এক চাচার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে তালা থানা পুলিশের এসআই আকরাম সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের একদল ফোর্স সাথে নিয়ে সবেদ শেখের বাড়ীতে হানা দেন। বিপ্লবকে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা না করায় পুলিশ সবেদ শেখকে বেধড়ক পেটায়। এক পর্যায়ে তার ডান হাতে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এদিকে পুলিশের সাথে থাকা প্রতিবেশী শাহাবুদ্দীন শেখের ছেলে ফোজদার শেখ ও শাহীন শেখের নেতৃত্বে ৭/৮ জন সন্ত্রাসী বিপ্লবকে ঘর থেকে বাইরে টেনে-হেঁচড়ে বের করে পুলিশের উপস্থিতিতে বেধড়ক পেটায়। বিপ্লব চিৎকার করতে থাকেন আর ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে দৌঁড়ে একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তাতেও রক্ষা হয়নি। পুলিশের উপস্থিতিতে শাহীন তাকে পুকুর থেকে তুলে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। বিপ্লব জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পুলিশ তাকে তুলে মাগুরা এলাকায় নিয়ে পাঁয়ে গুলি করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও চিকিৎসা নিয়ে চলে অবহেলা। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সকাল ৭টার দিকে বিপ্লব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তবে তালা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকী জানান, রাতে ইসলামকাটি-সুজনশাহ যাত্রী ছাউনি সংলগ্ন এলাকায় কতিপয় দুর্বৃত্ত সংঘবদ্ধ হয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে বিপ্লব গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টার দিকে তিনি মারা যান। এদিকে বিপ্লবকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার অভিযোগে স্থানীয় বিক্ষুব্দ জনতা শুক্রবার বিকেলে তার চাচাতো ভাই তোজাম্মেল হোসেনের বাড়ি ভাংচুর করেছে। তারা ঘরের আসবাবপত্র বাইরে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তালা থানার ওসি বাড়ি ভাংচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে গতকাল বিকালে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) থেকে সাংবাদিকদের ই-মেইলে প্রেরিত এক বার্তায় জানানো হয়, বিপ্লবের নামে একাধিক মামলা ছিল। গোপন দলের সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন। তিনি নাশকতার পরিকল্পনা করছেন এমন খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে তারা পুলিশের উপর ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ গুলি ছুড়লে বিপ্লব আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে বিপ্লব মারা যায়।

শেয়ার