মোরেলগঞ্জে জোয়ারের পানিতে রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি ॥ ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী

Morrelgonj photo
মশিউর রহমান মাসুম, মোরেলগঞ্জ॥ ভরা কটালের শেষ ভাগে পানির চাপ কমলেও ৪/৫ দিনের অস্বাভাবিক জোয়ারের স্রোতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহু জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে ২ হাজার পরিবার। ভেড়ীবাঁধ না থাকায় পৌরসভা সদরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক কাঁচা, পাকা ও পিচ ঢালাই রাস্তা ধ্বসে গেছে। রাস্তার কমপক্ষে দুই ফুট উপর থেকে স্রোত বয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০ কি.মি. কাঁচা পাকা রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। পাকা রাস্তার ইট ও ভেসে গেছে। সদ্য সমাপ্ত ৪০দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির অনেক কাঁচা রাস্তা ও পৌরসভায় নবনির্মিত কয়েকটি পাকা রাস্তার ইট, বালু, খোয়া ভেসে গিয়ে গভীর খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, গাবতলা এলাকায় প্রায় ১কি.মি. পাকা রাস্তা ধ্বসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। বহরবুনিয়া ইউনিয়নের সূর্যমুখী খাল এলাকার একটি পাকা রাস্তা, উত্তর ফুলহাতার একটি কাঁচা-পাকা রাস্তা ও বহরবুনিয়া হতে ফুলহাতা বাজার মুখী কাঁচা রাস্তা, দক্ষিণ বহরবুনিয়া গ্রামের নদীর তীরবর্তী কাঁচা রাস্তা ধ্বসে গেছে বলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রিপন হোসেন তালুকদার জানিয়েছেন। বারইখালী ইউনিয়নের ২/৩নং ওয়ার্ডভূক্ত নদীর তীরবর্তী বাদামতলা এলাকা থেকে তুলাতলা পর্যন্ত ওয়াপদার দেড় কিলো মিটার রাস্তা আংশিক ধ্বসে গেছে বলে চেয়ারম্যান মহারাজ খান জানিয়েছেন। হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ৭/৮নং ওয়ার্ডভুক্ত বদনীভাঙ্গা থেকে পাঠামারা এলাকার কমপক্ষে দুই কি.মি ভেড়ীবাধ নদী গর্ভে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছরোয়ার হোসেন। চিংড়াখালী ইউনিয়নের ৪/৫নং ওয়ার্ডভুক্ত চন্ডিপুর হতে যাত্রাঘাট পর্যন্ত ৩ কি.মি ভেড়ীবাধ ভেঙে গেছে, একই ইউনিয়নের সিংজোড় ঘোপের বাজার হতে তালতলা বাজার পর্যন্ত পাকা রাস্তার বিভিন্ন স্থান থেকে ধ্বসে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাসেম।
এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধসহ যাতায়ত ব্যবস্থা বিঘিœত হচ্ছে। তবে রাস্তাঘাট ধ্বসে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার বিষয়ে উপজেলা ত্রান ও দুর্যোগ বিষয়ক কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনের কাছে কোন তথ্য নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে ত্রান শাখার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গোটা উপজেলায় ১৮শ’২০টি পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় আছে। এর মধ্যে নদীর তীরবর্তী বহরবুনিয়া ইউনিয়নে ১৯৩, বারইখালী ইউনিয়নে ১২০, খাউলিয়া ইউনিয়নে ২১১, মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ১৮৩, নিশানবাড়িয়ায় ১৬৬, হোগলাপাশায় ১০০, পঞ্চকরণ ২১০ ও মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় ৭৫টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

শেয়ার